দেশের শীর্ষ আইনজীবী সংগঠনগুলোর একটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (২০২৬–২৭) দুই দিনের নির্বাচনে বুধবার প্রথম দিন থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
তফসিলমতো আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। এ সময় মাঝে এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে।
নির্বাচন সাব–কমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, "সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে।"
সমিতির প্রাঙ্গণে সকাল থেকে প্রার্থীদের সমর্থক আইনজীবীদের ভিড় লেগেছে এবং লম্বা লাইন গড়ে উঠেছে। নীল, সবুজ ও লাল-সবুজ ক্যাপ পরা সমর্থকরা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তারা আগত ভোটারদের হাতে নিজ নিজ প্যানেল ও প্রার্থীদের ব্যালট নম্বরযুক্ত কার্ডও তুলে দিচ্ছেন।
এর আগে ২ এপ্রিল একটি নোটিশে সমিতির নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এই এক বছর মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে নির্বাচন হয়। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য। এবার ১৪টি পদের জন্য ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন।
সমিতির এই নির্বাচন নির্দলীয় হলেও দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের মনোনীত প্রার্থীদের প্যানেলের আদলে হয়। আগের সময়গুলোতে বিএনপিপন্থী (নীল হিসেবে পরিচিত) এবং আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা হিসেবে পরিচিত) আইনজীবী প্যানেলের মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেত।
তবে গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন সেই সভায় উপস্থিত তিনজন আইনজীবী।
সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে লড়তে পারছেন না। তবে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নীল প্যানেল, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের সবুজ প্যানেল (আইনজীবী ঐক্য প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। নীল ও সবুজ প্যানেল থেকে ১৪টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দিয়েছে। এই তিন প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯৭। ১৪টি পদের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন।"






