গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আজিজার রহমান অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাসে করে গাইবান্ধা আসার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে রংপুর নগরের মডার্ন মোড় থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

আজিজার রহমান (৫৮) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাত গ্রাম ইউনিয়নের খোদা বক্স গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আজিজার রহমান রংপুর নগরের মডার্ন মোড়ে শুয়ে ছিলেন। ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে দেখে তাজহাট থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত হোসেনকে জানান। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। আজিজার রহমান নিখোঁজের ঘটনায় সাদুল্লাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সাদুল্লাপুর থানা থেকে পুলিশ এলে তাঁকে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আজিজার রহমানের ছেলে আশিকুর রহমান তাজহাট থানায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তাঁর বাবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মোট ভোটারের ১ শতাংশ জটিলতায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে তিনি ঢাকার গাবতলী থেকে বাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

আশিকুরের ভাষ্য, রাত একটার দিকে তাঁর বাবার নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করা হয়। ভোরে তিনি ফোন ব্যাক করলে অন্য ব্যক্তি ধরেন। আশিকুর তাঁর পরিচয় দিলে এবং তাঁর বাবা সংসদ সদস্য প্রার্থী পরিচয় দিলে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে ওই চক্রের দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে আড়াই হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু বেশি টাকা না দিলে তাঁর বাবাকে মারধর ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আজ দুপুরে তিনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

আজিজার রহমান এর আগে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে শুক্রবার রাত আটটায় তাজহাট থানায় আজিজার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিউ পিংক বাসের শেষের দিকে বাঁয়ে একটি সিটে বসে ছিলাম। পাশের সিটে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের শাহীন নামের একজন বসেছিল। সিরাজগঞ্জে যাত্রাবিরতিতে আমরা বাস থেকে নামলে তখন ও (শাহীন) আমাকে ডিম খাওয়ায়। এরপর বাসে উঠে চাদর মুড়ে দিয়ে শুয়ে পড়ি। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। এরপর আমাকে কে নামিয়ে দিল, তা–ও বলতে পারি না।’