লিভারের জটিলতায় সংকটে চেপে ধরেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনয়শিল্পী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে চেন্নাইয়ের ভেলোরে খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রথমে ফুসফুসের চিকিৎসা হবে, তারপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে।

গতকাল সোমবার রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাই রওনা হন কারিনা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা ও দুই ভাই। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।

আজ মঙ্গলবার মুক্তকণ্ঠকে কায়সার হামিদ বলেন, ‘ওখানে ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেছেন। আগে ফুসফুসের সমস্যাটা সামাল দিচ্ছেন। এরপর লিভারে অপারেশন করা হবে। প্রেশার নিয়ন্ত্রণে আছে। হৃৎপিণ্ড, কিডনিসহ বাকি সব ঠিক আছে।’

কায়সার হামিদ আরও জানান, দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এখন ধাপে ধাপে তাঁর শারীরিক অবস্থা উন্নত করার চেষ্টা চলছে। ফুসফুসে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা হচ্ছে।

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিনার দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন। কায়সার হামিদ বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে সাদাত হামিদের সঙ্গে কারিনার রক্তের গ্রুপের মিল আছে। তবে দুই ছেলেরই রক্ত নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে রোববার কায়সার হামিদ জানিয়েছিলেন, মেয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরিবার দ্রুত বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভিসা পাওয়ার জন্য তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগ করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের হাতে বেশি সময় নেই, দ্রুত ওকে বিদেশে নিতে চাই।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই জটিলতায় লিভার ফেইলিওর হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিককালে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখায় ব্যস্ত ছিলেন কারিনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে। পরে ওটিটি ও নাটকের জগতে নিজের জায়গা করে নেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তরা তাঁর সুস্থতা কামনা করছেন।