বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ সদস্যরা (এমপি) আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সংসদের ৩০০ জন সদস্য যদি সিদ্ধান্ত নেন যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস পাবে না। কিন্তু তাঁরাই যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন, তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা অসম্ভব। আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।’
আজ মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে শাহ আলী পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথাগুলো বলেন শফিকুর রহমান।
শাহ আলী বাজার পরিদর্শনের সময় জামায়াতের আমির বলেন, এই বিশাল আড়ত-মার্কেটে দোকানগুলোতে দখলদারি রয়েছে এবং নীরব চাঁদাবাজি চলছে; কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কথা বলতে চায় না। সবার মুখ চেপে রাখা হয়েছে।
চাঁদাবাজ কারা—এটি সবাই জানে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কারা করে এই চাঁদাবাজি? আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ করে না। এখানেই আমাদের সাথে চলাফেরা করে, ওঠাবসা করে, বসবাস করে, এই লোকেরা এগুলো করে। তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি।’
নিত্যপণ্যের ‘বাজার সিন্ডিকেট’ ভাঙতে সংসদে এবং বাইরে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে যেটা বিশ্বাস করি, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে এখানে যাঁরা ব্যবসায়ী আছেন; তাঁরাও কিন্তু ভালো ব্যবসা করতে পারছেন না। আমরা যাঁরা ভোক্তা আছি, আমরা ন্যায্যমূল্যে আমাদের পণ্যগুলো পাই না। কৃষক তাঁর উৎপাদিত মূল্যের ন্যায্যমূল্য পান না। মাঝখানে অন্যদের পেটে ঢুকে যায়। আমরা ওটা ভাঙতে চাই। কোন দিন ভাঙতে পারব আল্লাহ ভালো জানেন, কিন্তু আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই চলবে।’
বাজার সিন্ডিকেট না ভাঙা পর্যন্ত জামায়াত থামবে না উল্লেখ করে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা থামব না। আমাদের আওয়াজ, আমাদের প্রতিবাদ, আমাদের দাবি সংসদের ভেতরে এবং বাইরে সব জায়গায় অব্যাহত থাকবে। এই দেশটা আমরা সবাই মিলেই ভালো করতে পারব। একা কেউ পারবে না, একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার।’
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ তাদের দুর্দশার কথা বলতে চান কি না, তা জানতে চান জামায়াতের আমির। তখন একজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকান-ঘর বরাদ্দ দিয়েছে। তবে যাঁরা বরাদ্দ পেয়েছেন, তাঁরা দোকানভেদে সেগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া দেন ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক চুক্তিতে।
আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন হলেও আগের নিয়মেই রাজনীতিবিদেরা দোকান ভাড়া নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে সেটি বেশি দামে ভাড়া দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও মাদক সমস্যার কথাও জানান তিনি।
সেই ব্যবসায়ী সত্য কথা বলার কারণে কোনো বিপদে পড়লে জামায়াত তাঁর পাশে থাকবে বলে জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আপনার কোনো সমস্যা হলে আমরা আপনার পাশে থাকব।’
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সরকারের প্রতি কোনো পরামর্শ আছে কি না জানতে চাইলে জামায়াতের আমির বলেন, সংসদ অধিবেশনের সর্বশেষ বক্তব্যে জনগণের দুঃখ-কষ্টের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর বেশির ভাগ কথা জাতীয় জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব বিষয় নিয়ে তাঁরা মাঠে নামবেন, জনগণকে সংগঠিত করবেন এবং একটা সময়ের ব্যবধানে এই যন্ত্রণা থেকে জনগণকে মুক্ত করবেন।
এ সময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান), ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।






