কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে উত্তেজনার চরমে পৌঁছেছিল ম্যাচ। ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময় চলাকালীন স্কোরবোর্ডে ১–১ সমতা। ঠিক তখনই সৌরভ দেওয়ানের দুর্দান্ত প্রদর্শন। উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভের নিখুঁত কর্নার থেকে বল পেয়ে চমৎকার শটে ব্রাদার্সের জাল কাঁপিয়ে দেন মোহামেডানের ফরোয়ার্ড সৌরভ। সাদা-কালো শিবির তখন জয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা। সতীর্থরা ম্যাচের নায়ক সৌরভকে ঘিরে উদযাপন করে। তার জোড়া গোলেই ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠল ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান।
আগামী ১৯ মে কিংস অ্যারেনায় শিরোপার লড়াইয়ে মোহামেডানের মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংস।
ম্যাচ শুরু হয়েছিল সতর্কতার সঙ্গে। দুই দলই একে অপরকে বিচার করছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মোহামেডানের আক্রমণ বাড়তে থাকে। ৩৮ মিনিটে রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো থেকে প্রথম ব্রেকথ্রু আসে। বক্সে অবস্থিত এলি কেকে মাথায় ছুঁয়ে বল বাড়িয়ে দেন, সৌরভ সেখান থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও আরিফের ক্রস থেকে সৌরভের হেড লক্ষ্য হারায়। অন্যদিকে ব্রাদার্সও পিছপা হয়নি। স্যামুয়েল চিগোজি বা শায়েক দোস্তরা মোহামেডানের প্রতিরক্ষায় ভয় দেখালেও ফিনিশিংয়ের ঘাটতিতে গোল করতে পারেনি। বিরতির পর ব্রাদার্স মরিয়া হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে মোহামেডানকে ব্যস্ত করে। ৪৮ মিনিটে আলমগীর গাজীর শট রক্ষা করেন গোলকিপার সুজন। তবে ৭৪ মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক সরাসরি জালে পৌঁছে সমতা ফিরিয়ে আনে। এটি ছিল এ মৌসুমে জামালের প্রথম গোল।
ম্যাচ সমতার দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আবার সৌরভ দেওয়ানের উত্থান। শেষ মুহূর্তের গোলটি নিশ্চিত করে মোহামেডানের জয়। এই জয়ে ফেডারেশন কাপে ১৭ বারের মতো ফাইনালে নাম লিখিয়েছে মোহামেডান। টুর্নামেন্টে তারা ১১ বার শিরোপা জিতেছে। চলতি আসরে সৌরভ ছয় গোল করেছেন। গ্রুপ থেকে কোয়ালিফায়ার পেরিয়ে মোহামেডান এখন ১২তম শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। মোহামেডানের ঐতিহ্য আর সৌরভের ছন্দে কিংস অ্যারেনায় রোমাঞ্চকর ফাইনালের আভাস মিলছে।






