সিলেটে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী যুবক জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে সিলেট সদর উপজেলা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

জাকির হোসেন (৩০) সদর উপজেলার একটি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে কঠোর শাস্তি দাবি করে গতকাল রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা থানা ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মধ্যরাতে জাকিরের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

এর আগে ৬ মে শিশুটি নিখোঁজ হয়। ৮ মে বাড়িসংলগ্ন একটি ডোবার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের ঘটনায় শিশুটির মা প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। লাশ পাওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় জাকির হোসেন গ্রেপ্তার হন।

জাকির প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ মে সকালে শিশুটিকে মুদিদোকান থেকে সিগারেট আনতে পাঠিয়েছিলেন জাকির। সিগারেট নিয়ে আসার পর তাকে নিজের ঘরে নিয়ে যান জাকির। তখন বাড়িতে কেউ ছিলেন না। এ সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। জ্ঞান হারালে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতর একটি স্যুটকেসে লুকান। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে লাশ খাটের নিচে রাখেন, এমনকি সবার সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজতেও যোগ দেন।

সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, পরে সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হলে গভীর রাতে পাশের ডোবায় মরদেহ ফেলে দিতে চান। কিন্তু ভেসে ওঠায় ডোবার পাশে গাছের নিচে লুকিয়ে রাখেন।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কি না, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর জানা যাবে।

গ্রেপ্তার জাকিরকে আদালতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব।