চট্টগ্রাম নগরে জুতা সেলাই ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করে কষ্টসাধ্য জীবন চালান কাঙ্গাল দাস। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাঁর পরিবার মাছ-মাংস কেনা বন্ধ করে দিয়েছে। এখন ডাল-সবজিতেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

কাঙ্গাল দাসের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাটগড় গ্রামে। কাজের খোঁজে ১০ বছর আগে তিনি চট্টগ্রামে চলে আসেন। চার মেয়ে নিয়ে তাঁর ছয় সদস্যের পরিবার। বড় মেয়েকে কিছুদিন আগে বিয়ে দিয়েছেন। অভাবের কারণে মেজো মেয়েকে ষষ্ঠ শ্রেণির পর আর পড়াতে পারেননি। তৃতীয় মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। নগরের হাজি ক্যাম্প এলাকায় ছয় হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় থাকেন তারা।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের নগরের সিটি গেট-সংলগ্ন আলহাজ মোস্তফা হাকিম ডিগ্রি কলেজ সড়কের পাশে বেলা তিনটায় দেখা হয় কাঙ্গাল দাসের (৪৫) সঙ্গে। প্রচণ্ড গরমে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা। তবু জুতা সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে ফুটপাতে বসে আছেন তিনি। স্ত্রী কাজে গেলে তিন বছরের মেয়ে মিতু রানি দাসকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। গরমে ঘেমে বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে মেয়েটি। ঘুমন্ত মেয়েকে পাশে রেখে ছেঁড়া-ফাটা জুতা-স্যান্ডেল সারানোর গ্রাহকের অপেক্ষায় বসে থাকেন কাঙ্গাল দাস।

কাজের ফাঁকে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কাঙ্গাল দাস বলেন, “এখন তেমন কাম–কাজ নাই। মানুষ জুতা পলিশ কিংবা সেলাই করতে তেমন আসেন না।” জুতা সেলাইয়ের আয় কমে যাওয়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। সেখানে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয় হয়। রাস্তায় বসলে দিনে কখনো ৫০ টাকা, কখনো ২০০ টাকাও হয়।

‘যা উপার্জন করছি, তাতে মোটেও কুলিয়ে উঠতে পারছি না। নিজের উপার্জনে ঘর ভাড়ার টাকাই ওঠে না। বাধ্য হয়ে স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছে। সে বেতন পায় সাত হাজার টাকা। এটি দিয়েই ঘর ভাড়া দিই। আর আমার টাকা দিয়ে বাজারসদাই করি।’