২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্য পাওলো দিবালা। ফাইনালে টাইব্রেকারে গোলও করেছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে দিবালার মাঠে নামার মতো উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল সেই একটিই। কারণ, ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি মোট মাত্র ১৭ মিনিট খেলেছেন।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১৬ মিনিট এবং ফাইনালে মাত্র এক মিনিট খেলেছেন দিবালা। তবুও বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তাঁর অবদান অস্বীকার্য। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে তাঁর নাম নেই।

দিবালার বাদ পড়াটা ভক্তদের জন্য হতাশাজনক, তবে অপ্রত্যাশিত নয়। ৩২ বছর বয়সী এই সাবেক জুভেন্টাস তারকার প্রতিভা নিয়ে কখনো সন্দেহ হয়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক ফিটনেস বজায় রাখতে না পারা এবং নির্দিষ্ট ভূমিকায় মানিয়ে নেওয়ার সমস্যা বারবার তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারও একই কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁকে প্রাথমিক দল থেকে বাদ দিয়েছেন।

পেশির চোটজনিত সমস্যায় এক বছরের বেশি সময় ধরে স্কালোনি দিবালাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাকেননি। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। সম্প্রতি চোট কাটিয়ে এএস রোমায় ফিরে ৯০ মিনিট খেললেও তা স্কালোনির মন জয় করতে পারেনি। এর আগে ২০২৪ কোপা আমেরিকা দলেও তাঁর জায়গা হয়নি।

ক্লাব ফুটবলেও দিবালা অনিয়মিত। চলতি মৌসুমে চোটের কারণে একের পর এক ম্যাচে স্কোয়াডের বাইরে ছিলেন। রোমার হয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬টি ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন—৫টি লিগে এবং ১টি ইউরোপা লিগে। স্কালোনি প্রাথমিক দল নির্বাচনের সময়টায়ও তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন, যা তাঁর বাদ পড়ার বড় কারণ।

প্রয়োজনে হাফ ফিট খেলোয়াড়কেও দলে নেওয়া হয়, যেমন স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে লামিনে ইয়ামালকে খেলানোর জন্য কৌশল বদলানোর চিন্তা করছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে প্রচুর বিকল্প থাকায় স্কালোনির উপর দিবালাকে নিয়ে চাপ নেই। তিনি তরুণ ও গতিময় খেলোয়াড়দের দিকে ঝুঁকছেন।

স্কালোনির কৌশল গতিময় প্রেসিং, দ্রুত আক্রমণ এবং ডিফেন্সিভ ওয়ার্করেটের উপর জোর দেয়। দিবালা সৃষ্টিশীল হলেও অফ–দ্য–বলে তাঁর তীব্রতা কম এবং প্রেসিংয়ে ধারাবাহিক নন। এছাড়া নতুন প্রজন্মের উত্থান ঘটছে। লিওনেল মেসি যুগ শেষের দিকে এগোচ্ছে। আর্জেন্টিনা দল পরীক্ষিত অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

দিবালা–ভক্তদের জন্য এটা হতাশার। তুমুল প্রতিভা নিয়ে ২০১৫ সালে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ ম্যাচে ৪টি গোল করেছেন। হয়তো এই সংখ্যা ৪০–এর মধ্যেই থেমে যাবে।