চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আজহা পালিত হবে। এই ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানপাটে বেচাকেনা বেড়ে যায়। ঈদ সামনে এলে কেনাকাটার চাপ বাড়ে এবং পরিকল্পনা ছাড়া বাজারে গেলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ হয়। কোরবানির পশু কেনার পাশাপাশি অনেকে পোশাক কেনেন এবং মুখরোচক খাবারেও অর্থ ব্যয় করেন।

ঈদ উপলক্ষে চাকরিজীবীদের সাধারণ বোনাস দেওয়া হয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই বাজারে বোনাসের টাকা সাশ্রয়ীভাবে খরচ করাই শ্রেয়।

কিছু কৌশল অবলম্বন করলে কেনাকাটার আনন্দ পাওয়া যাবে এবং সঞ্চয়ও হবে। আসুন জেনে নিই সেই কৌশলগুলো—

১. কেনাকাটার তালিকা তৈরি করুন

কী কিনবেন, কার জন্য কিনবেন এবং কত টাকা খরচ করবেন—এসব আগেই লিখে রাখুন। তালিকা ছাড়া বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ঝুঁকি বাড়ে।

২. বাজেট নির্ধারণ করুন

পোশাক, জুতা, প্রসাধনসামগ্রী, উপহার—প্রত্যেক খাতের জন্য আলাদা বাজেট ঠিক করুন। বাজেট অতিক্রম করলে অন্যান্য খাতে চাপ পড়বে।

৩. একসঙ্গে সব কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন

একদিনে সব কেনলে ক্লান্তিতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সময় নিয়ে ধাপে ধাপে কিনলে দাম যাচাই করার সুযোগ পাওয়া যায়।

৪. অনলাইনে দাম তুলনা করুন

একই পণ্যের দাম বিভিন্ন দোকান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিন্ন হতে পারে। কেনার আগে অন্তত দু-তিন জায়গার দাম তুলনা করুন।

৫. অফার দেখে সতর্কতার সঙ্গে কিনুন

‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ বা বড় ছাড় দেখে তাড়াহুড়ো করে কিনবেন না। আগে যাচাই করুন জিনিসটি সত্যিই দরকার কি না।

৬. কার্ড ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করুন

ক্রেডিট কার্ডে অতিরিক্ত খরচের প্রবণতা বেশি। তাই আগে থেকে সীমা নির্ধারণ করুন এবং সম্ভব হলে নগদ বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করুন।

৭. শিশুদের কেনাকাটায় সীমাবদ্ধতা রাখুন

শিশুদের আবদার মেনে বাজেট ভাঙা যায় না। আগেই ঠিক করুন কত পোশাক বা খেলনা কেনা হবে।

৮. শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা এড়ান

ঈদের আগের শেষ সময়ে বাজারে ভিড় বাড়ে, দরদামের সুযোগ কমে এবং অনেক দোকানে দামও বেড়ে যায়।

৯. ট্রেন্ডের বদলে ব্যবহার্যতা দেখুন

শুধু ফ্যাশনের জন্য দামি পোশাক কিনলে তা কম ব্যবহৃত হয়। টেকসই এবং বারবার পরা যায় এমন পোশাক বেছে নিন।

১০. ঈদের পরের খরচ মাথায় রাখুন

ঈদের পর স্কুলের বেতন, বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য মাসিক খরচ থাকে। তাই ঈদের কেনাকাটায় সব টাকা খরচ না করাই উত্তম।