প্রদর্শনীর জন্য ১৯ বছর আগে ফ্রান্সে পাঠানো প্রত্ননিদর্শনগুলো আসল অবস্থায় ফেরত এসেছে কি না, তা যাচাই করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ৯ সদস্যের কমিটির প্রধান শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলামকে করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। কমিটির কয়েকজন সদস্য ২০০৭ সালে ফ্রান্স ফেরত প্রত্ননিদর্শনের বিষয় তুললে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিক ইউএনওকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

২০০৭ সালে প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে প্রত্ননিদর্শন ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরের ৪৭টি ছিল। প্রথম লটে কয়েকটি পাঠানোর পর দ্বিতীয় লটে একটি মূর্তি বিমানবন্দরে হারিয়ে যায়। ফলে ফ্রান্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয় এবং পরে মূর্তিগুলো ফেরত আনা হয়। কিন্তু সেগুলো আসল নাকি রেপ্লিকা, তা এখনো যাচাই হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রত্ননিদর্শনের বিষয়ে তদন্ত করতে শিবগঞ্জের ইউএনওকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে দেখবে প্রত্ননিদর্শনগুলো কী অবস্থায় আছে, কতগুলো আসল আর কতগুলো রেপ্লিকা। মীর শাহে আলম বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ফ্রান্সের গিমে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য সে দেশের দূতাবাস থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি জানিয়ে ফ্রান্স দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সঙ্গে ফ্রান্সের তিনটি আলাদা চুক্তি হয়। পরে ২০০৭ সালের ১৮ নভেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় প্রত্ননিদর্শন পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়।