বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজিটাল বা ‘ই-ঋণ’ প্রদানের নীতিমালা জারি করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সকল ব্যাংক এই ধরনের ছোট ঋণ দিতে পারবে।
এই ঋণের লক্ষ্য প্রধানত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং নগদ লেনদেন কমিয়ে ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলা। একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বিকেলে এই নীতিমালা জারি করেছে।
বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের গ্রাহকরা এ ধরনের ঋণ পান। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালিয়েছে। এতে সফলতা পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিকভাবে সেবাটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নীতিমালা অনুসারে, সাধারণ গ্রাহকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এ ঋণ নিতে পারবেন। তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুযায়ী খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ ঋণ পাবেন না। ঋণ প্রদানের আগে ব্যাংকগুলোকে অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকের ঋণ তথ্য যাচাই করতে হবে। এর জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো মাশুল নেওয়া যাবে না। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাস।
ঋণের আবেদন থেকে আদায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ‘এন্ড-টু-এন্ড’ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। গ্রাহকদের ব্যাংকে সশরীরে যেতে হবে না। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপস, ই-ওয়ালেট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে কলমের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ডিজিটাল বায়োমেট্রিক তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত ও সম্মতি নেওয়া হবে।
গ্রাহকের নিরাপত্তার জন্য ওটিপি এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার বাধ্যতামূলক। গ্রাহকের সব তথ্য বাংলাদেশে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউসে সংরক্ষণ করতে হবে।
ই-ঋণে সাধারণত বাজারভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণ করবে ব্যাংকগুলো। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিলে গ্রাহকপর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে অন্তত ছয় মাস পাইলটিং চালাতে হবে। সফল হলে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে সেবা শুরু করা যাবে। গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতেও ব্যাংকগুলোকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






