জুলাই আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অনিক কুমার দাসের উপর হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিচালকের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত আবার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

আজ সোমবার মামলার তদন্তকারীর আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এই নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক অনুপ কুমার দাস রিমান্ড মঞ্জুরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পূর্বে দুইবার ছয় দিনের রিমান্ড শেষ করে আজ আফজাল নাছেরকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। মামলার সঠিক তদন্তের জন্য কোতোয়ালি থানার এসআই কে এম আবদুল হক তাঁকে আরও পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তাব করেন। আসামির পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানির পর আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা গেছে, আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলায় বেশ কয়েকবার রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় তিন দিন করে রিমান্ড হয়। এরপর মাহমুদুল হত্যা মামলায় ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন, ২৯ এপ্রিল তিন দিন এবং ২ মে আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সর্বশেষ অনিক কুমার দাসের হত্যাচেষ্টা মামলায় ৫ মে তিন দিন এবং ৮ মে আরও তিন দিনের রিমান্ডের নির্দেশ হয়।

এই মামলার অভিযোগ অনুসারে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে পৌঁছলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের উপর অকস্মাৎ গুলি চালায়। এতে অনিক কুমার দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর গত ৩১ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান অনিক। ঘটনার চার মাস পর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় তিনি হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন।

আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই মামলায় আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরও চার দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।