বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’র সঙ্গে অফিশিয়াল ট্রেনিং অ্যান্ড গ্রোথ পার্টনারশিপের মাধ্যমে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে এই ব্র্যান্ডটি যুক্ত হয়েছে।
আজ সোমবার (১১ মে) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এই পার্টনারশিপ ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বাফুফের প্রতিনিধি, ইউনিলিভার বাংলাদেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি, গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম ও মিডফিল্ডার উমেলা মারমা উপস্থিত ছিলেন।
এই চুক্তির আওতায় আগামী দুই বছর ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ট্রেনিং অ্যান্ড গ্রোথ ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা হবে।
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিউটি অ্যান্ড ওয়েলবিং হেড জাহিন ইসলাম বলেন, ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’ অনেক বছর ধরেই নারীর মেধাবিকাশ ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় তাদের পরবর্তী দুই বছরের জন্য আমরা ট্রেনিং অ্যান্ড গ্রোথ পার্টনার হিসেবে সাপোর্ট দেব। আমরা আশা রাখি, এই ফুটবলাররাই নারীদের অনুপ্রেরণা দেবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে। এ ছাড়া তাদের সাফল্য নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের আরও উৎসাহ জোগাবে।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এই পার্টনারশিপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলীর সঙ্গে এই পার্টনারশিপ ব্র্যান্ডের সম্পৃক্ততা এবং নারীদের প্রতিভার স্বীকৃতির ব্যাপার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, ব্র্যান্ডের সিনার্জি প্লেয়ারদের ওপরও প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে নারী ফুটবল বাংলাদেশের বড় অ্যাম্বাসেডর হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, বর্তমানে বিশ্বদরবারে দেশের নারীদের প্রেজেন্ট করতে ফুটবল খুব ভালো ভূমিকা রাখছে।’
বাফুফের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম বলেন, ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী প্রায় তিন দশকের বেশি পুরোনো একটি ব্র্যান্ড। এমন একটি ব্র্যান্ডের পার্টনার হওয়াটাও আমাদের জন্য এক ধরনের ব্র্যান্ডিং। ট্রেনিং অ্যান্ড গ্রোথ ডেভেলপমেন্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাদের সাপোর্ট পাওয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। আমি বিশ্বাস করি, এই পার্টনারশিপ শুধু বর্তমান প্লেয়ারদের নয়, ভবিষ্যতের ফুটবলারদেরও উৎসাহ দেবে।’
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী দলের সাফজয়ী গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম বলেন, ‘যেহেতু ট্রেনিংয়ের কারণে আমাদের অনেকটা সময় রোদে থাকতে হয়, তাই এমন একটি ব্র্যান্ডকে আমাদের পাশে পেয়ে ভালো লাগছে। আশা করি, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি দেশে নিয়ে আসব।’
টিমের মিডফিল্ডার উমেলা মারমা বলেন, ‘অনেক ভালো লাগছে গ্লো অ্যান্ড লাভলীকে পাশে পেয়ে। আমরা চাইব, ভবিষ্যতেও যেন তারা এভাবে সাপোর্ট দিয়ে যায়।’
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তি বলেন, ‘টিমের জন্য এত বড় পার্টনারশিপ এই প্রথম। তাই আমি ধন্যবাদ জানাব গ্লো অ্যান্ড লাভলীকে। এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের হ্যাটট্রিক শিরোপার সুযোগ রয়েছে। সেখানে আমরা এই পার্টনারশিপকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করব।’
নারীর অগ্রযাত্রায় ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। শহর ও গ্রামে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে এই ব্র্যান্ডটি অনেক তরুণীকে ক্যারিয়ার গঠন ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্র্যান্ডটি বিশ্বাস করে, নারীরা যেন নিজেদের পরিচয়ে পরিচিত হন এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যান। সেই বিশ্বাস থেকেই জাতীয় নারী ফুটবল দলের সঙ্গে এই পার্টনারশিপে যুক্ত হয়েছে। পার্টনারশিপের অংশ হিসেবে দলের অফিশিয়াল প্র্যাকটিস ও ট্রেনিং-সংক্রান্ত অ্যাসেট, ট্রেনিং কিট এবং বাফুফে-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচিত কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্মে ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’র লোগো প্রদর্শিত হবে।
পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অগ্রগতি সবার নজরে এসেছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালে টানা দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন, এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপ ২০২৬-এর বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ এবং মূল আসরে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে। সামনের দিনেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
ভবিষ্যতেও নারী ফুটবলের উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের গ্রোথ জার্নিকে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ‘গ্লো অ্যান্ড লাভলী’।






