শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে কোনো ক্লাস হয়নি, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এলেও কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।

৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। এরপর আজ এ কর্মসূচি কার্যকর হয়।

প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বসে সময় কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দুই কর্মচারী বলেন, “আমরা শিক্ষকদের নির্দেশনায় এ তালা ঝুলিয়েছি।” অর্থ দপ্তর থেকে বের হওয়ার সময় অর্থ দপ্তরের প্রধান সুব্রত কুমার বাহাদুর বলেন, “শিক্ষকদের অনুরোধে আমরা বের হয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছি। উপাচার্য যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের ছুটি দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করব।”

ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ধীমান কুমার রায় বলেন, “আমরা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তাঁকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনো সহযোগিতা করব না। প্রশাসনিক বিভিন্ন পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত প্রক্টরসহ তিনজন পদত্যাগ করেছেন।”

ধীমান কুমার রায় আরও বলেন, “আমাদের পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হয়েছে ছয় মাস আগে। এরপর কয়েকটি সিন্ডিকেট সভা হয়েছে। কিন্তু আমাদের পদোন্নতির বিষয়টি ইচ্ছা করেই তোলেননি উপাচার্য। বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। আমরা আর তাঁকে প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করব না।” শিক্ষার্থীদের সেশন জটের বিষয়ে তিনি বলেন, “এখন যে ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না, তাতে যে সেশন জট হবে, সেটা আমরা পুষিয়ে নেব।”

শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চলবে বলে সমঝোতা হয়েছিল। সেই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকেরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম মুক্তকণ্ঠকে জানান, তাঁদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ৮ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু গত শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। এ ছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

এর আগে ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়।

শিক্ষকদের এ কর্মসূচিকে আইনবিরোধী আখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য তৌফিক আলম। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেছেন, “আপনারা নিজেরা কর্মবিরতি করতে পারেন, অন্যের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পারেন না। এটা সরাসরি আইনবিরুদ্ধ কাজ। আমি আপনাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকুন, তা না হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”