বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাব্বারিয়া গ্রামে কুকুরের তাড়া খেয়ে একটি হরিণ মোস্তফা ফরাজির বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আজ সোমবার সকাল ছয়টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। বন বিভাগের লোকজন এসে প্রাণীটি উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে সুন্দরবনের একটি অংশে অবমুক্ত করে।
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, হরিণটি কোনো শিকারি চক্রের পাতা ফাঁদ থেকে ছুটে এসে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তাঁদের দাবি, পাথরঘাটার জ্ঞানপাড়া এলাকায় একটি হরিণশিকারি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলা সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হরিণটি পথ হারিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কোনো চোরা কারবারির কাছ থেকে ছুটে এসে এটি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।
জ্ঞানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুল বলেন, তিনি ফসলের মাঠে কাজ করার সময় দূর থেকে হরিণটিকে দেখতে পান। পরে কয়েকটি কুকুর তাড়া করলে হরিণটি দৌড়ে গিয়ে একটি জালে আটকে পড়ে। সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর প্রাণীটি মোস্তফা ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
মোস্তফা ফরাজি বলেন, ‘হরিণটি কোথা থেকে এসেছে, তা বলতে পারছি না। কুকুরের তাড়া খেয়ে এটি আমার বাড়ির পুকুরপাড়ে এসে আটকে পড়ে। পরে আমি বন বিভাগসহ স্থানীয় লোকজনকে খবর দিই। বন বিভাগের লোকজন এসে হরিণটি উদ্ধার করে নিয়ে যান।’
জ্ঞানপাড়া বিট কর্মকর্তার বিশেষ সহকারী সুরজিৎ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হরিণটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে হরিণটি কিছুটা অসুস্থ ছিল। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সেটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা বদিউল আলম সোহাগ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, হরিণটি কোনো শিকারির পাতা ফাঁদ থেকে ছুটে এসেছে। যেখান থেকে হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকে বনাঞ্চলের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার।






