ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় একটি ডোবা থেকে পুলিশ ১৮ মাসের শিশু মোহাম্মদ হাসানের লাশ উদ্ধার করেছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে দাগনভূঞা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমানউল্লাহপুর বাঁশপাড়া এলাকা থেকে লাশটি পাওয়া যায়।
শিশুটি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মোহাম্মদ তারেকের ছেলে। তারেক দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞা পৌরসভা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে আসছেন। গত শনিবার বেলা তিনটার দিকে শিশুটি বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। সেই রাতে তার বাবাকে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোবাইলে কল দিয়ে শিশুটির অপহরণের কথা জানিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেন।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে ১২ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরে আবার ফোন করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরিবার পুলিশকে বিষয়টি জানায়। শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর সন্ধ্যায় দাগনভূঞা থানায় জিডি করা হয় এবং রাতের ফোনকলের কথাও তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে পরিবার অভিযোগ করে যে, পুলিশ শিশুটি উদ্ধারের চেষ্টা করেনি।
শিশুর মা তারজিনা আক্তার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। অপহরণকারীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চেয়েছে। এত টাকা আমরা কোথায় পাব। তারপরও আমরা টাকা জোগাড় করতে ব্যস্ত ছিলাম। পরে দেখি যে নম্বর থেকে কল করেছে, সেটি বন্ধ। পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।’
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলুল আজীম জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই এবং তারা মামলা করেনি বলে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে। অপহরণ ও মুক্তিপণের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর বাবা ফেসবুকে পোস্ট করেন যেখানে তার নম্বর দেন। সম্ভবত সেখান থেকে নম্বর নিয়ে প্রতারক কেউ ফোন করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, সেই মোবাইল নম্বর নওগাঁ এলাকার। তিনি আরও বলেন, শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা, পরিবারের অগোচরে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, স্বজনদের পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।






