ভিয়েতনামের দানাংয়ে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত পূর্ণ দূরত্বের আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ট্রায়াথলিট মো. সাজেদুর রহমান সফলভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশ থেকে একাই অংশ নেয়া তিনি নির্ধারিত সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড় সম্পন্ন করেন ১৫ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট সময়ে।

ট্রায়াথলন খেলায় সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়ের সমন্বয় ঘটে। এক দিনে অনুষ্ঠিত এই পূর্ণ দূরত্বের আয়রনম্যানকে বিশ্বের অন্যতম কঠিন ক্রীড়া চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার, ১৮০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে হয়।

৩৫–৩৯ বছর বয়স বিভাগে অংশ নেয়া সাজেদুর রহমান তাঁর গ্রুপে ১১৩ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৮৮তম স্থান অর্জন করেন। আয়রনম্যানের অফিশিয়াল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মোট ৭০৩ জনের মধ্যে তিনি ৫৮০তম হন।

প্রতিযোগিতা শেষে অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সাজেদুর রহমান বলেন, ‘শুরুতেই ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটে ৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার সাঁতার শেষ করে সাইক্লিং শুরু করি। প্রায় ৮০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর এক ড্রাইভারের হঠাৎ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টায় ব্রেক করতে গিয়ে পড়ে যাই এবং ডান পায়ে আঘাত পাই। এতে সাইকেলের চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে সাইকেলের গতি কমে যায় এবং শারীরিক অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। তারপর দৌড় শেষ করি।’

প্রসঙ্গত, এর আগে আয়রনম্যান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ হামবুর্গ ২০২৪ এবং আয়রনম্যান মালয়েশিয়া ২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন করেন মো. সাজেদুর রহমান। এটি তাঁর তৃতীয় পূর্ণ দূরত্বের আয়রনম্যান। আয়রনম্যানের বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত আয়রনম্যান ও আয়রনম্যান ৭০.৩ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এসব আয়োজনের ফলাফলের ভিত্তিতে ট্রায়াথলেটরা পরবর্তী সময়ে আয়রনম্যান ও আয়রনম্যান ৭০.৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে মো. সাজেদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন যুগ্ম পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। সাজেদুর রহমান আয়রনম্যান ভিয়েতনামে পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বিডিট্রাই কমিউনিটি, এস্তে অ্যাস্থেটিক হসপিটাল, পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও দ্য পাঞ্চ কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।