পাবনার বেড়া পৌরসভার মৈত্রবাঁধা মহল্লার একটি বাড়িতে প্রায় দেড় দশক ধরে মে মাস এলেই দৃষ্টিনন্দন ‘মে ফ্লাওয়ার’ ফুটছে। বছরের অন্য সময় গাছটির কোনো চিহ্ন চোখে পড়লেও গ্রীষ্মের শুরুতে মাটি ভেদ করে কচি ডাঁটা বের হয়। তারপর ধীরে ধীরে লাল গোলাকার ফুল গাছে ধরে। এবারও সেই বাড়িতে পাঁচটি মে ফ্লাওয়ার ফুটেছে।
বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক শিখা রাহা। তাঁর বাড়িতে ফুল দেখতে অনেকে আসেন। কেউ মুঠোফোনে ছবি তোলেন, কেউ ফুলের নাম ও বৈশিষ্ট্য জানতে চান। উজ্জ্বল লাল রঙের গোলাকার এই ফুল সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
জানা গেছে, ১৫ বছর আগে আঙিনার পাশে মে ফ্লাওয়ার গাছ লাগানো হয়। তারপর থেকে প্রতি বছর মে মাসে ফুল ফোটে। এই গাছের বিশেষত্ব, ফুলের মৌসুম শেষে পুরো গাছ শুকিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। বাইরে থেকে তখন কোনো অস্তিত্ব দেখা যায় না। কিন্তু মাটির নিচে শিকড় জীবিত থাকে। পরের মৌসুমে সেই শিকড় থেকে নতুন গাছ জন্মে ফুল ফোটে।
শিখা রাহা বলেন, ‘১৫ বছর আগে শখের বশে মে ফ্লাওয়ার গাছ লাগিয়েছিলাম। তেমন কোনো যত্ন ছাড়াই প্রতিবছর ফুল হচ্ছে। অনেকেই ফুল দেখতে আসেন, ছবি তোলেন। তখন খুব ভালো লাগে। যেহেতু এই ফুলগাছের শিকড় বা কন্দ থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়, তাই প্রতিবছর অনেকেই আমার কাছ থেকে কন্দ নিয়ে লাগান।’
উদ্ভিদবিদদের তথ্যমতে, মে ফ্লাওয়ার কন্দজাতীয় এক ধরনের ফুলগাছ। এটি ফায়ার বল, ব্লাড লিলি বা গ্লোব লিলি নামেও পরিচিত। আফ্রিকা এর আদি নিবাস হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালো বেড়ে ওঠে। সাধারণত গ্রীষ্মের শুরুতে ডাঁটা বের হয় এবং মে মাসজুড়ে ফুল ফোটে। এই ফুল কন্দ বা শিকড় থেকে জন্মায়। ফুল ও পাতা শুকিয়ে গেলে কন্দ তুলে সংরক্ষণ করা যায় বা মাটিতে রাখা যায়। বর্ষার আগে বা গরমের শেষে হালকা ঝুরঝুরে মাটিতে কন্দ লাগালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। কন্দ পুরোপুরি গভীরে না পুঁতে আংশিক ওপরে রাখাই ভালো। হালকা ছায়াযুক্ত ও পানি জমে না এমন জায়গায় এটি ভালো জন্মে। তেমন পরিচর্যা লাগে না। মাটি শুকিয়ে গেলে সামান্য পানি দিলেই হয়। গাছে বীজ হয় যদিও বীজ থেকে ফুল পেতে অনেক সময় লাগে। কন্দ লাগালে প্রতি বছর নতুন গাছ বেরিয়ে ফুল ফোটে।
বেড়ার মনজুর কাদের মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আবদুস সালাম জানান, এটি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত একটি ফুল। গোলাকার এই ফুল দেখতে ফুটবলের মতো। প্রায় ২০০টি ছোট ফুল মিলে একটি বড় ফুল তৈরি হয়। তাই লিলি বা ফুটবল লিলি বলা হয়। সাধারণত মে মাসে ফোটে এবং দুই সপ্তাহ স্থায়ী থাকে।
মনজুর কাদের মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মে ফ্লাওয়ার বছরের অন্য সময় দেখা যায় না। মে মাসে ফুটলে পুরো পরিবেশ বদলে যায়।






