‘এবার শীত বেশি পড়ছে। দিনে কোনোরকমে থাকতে পারলেও রাইতে ঠান্ডায় শরীর জইম্যা যায়। আমারে কম্বলডা দিয়ে উপকার করল্যা তোমরা। কম্বল গায়ে দিয়্যা কামকাজও করতে পারমু।’

আজ শুক্রবার সকালে মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের কম্বল পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন ষাটোর্ধ্ব সালেহা বেগম। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের দিঘী দক্ষিণপাড়া গ্রামে।

মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের উদ্যোগে দিঘী দক্ষিণপাড়া এলাকায় ২২৫ জন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষের বিবিএ ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সৌজন্যে এই শীতবস্ত্র বিতরণে সহযোগিতা করেন মুক্তকণ্ঠ মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্যরা।

জেলা সদরের কাছে হলেও দিঘী ইউনিয়নটি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে। অনেকে এ ইউনিয়নকে ‘বাতির নিচে অন্ধকার’ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী। এই ইউনিয়নের দিঘী, দিঘী উত্তরপাড়া, দিঘী দক্ষিণপাড়া, ছুটি ভাটবাউর, ভাটবাউর, কয়ড়া, পিতলাই ও নতুন বসতি গ্রামের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আজ এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।

এর আগে বুধবার বন্ধুসভার সদস্যরা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে শীতার্ত মানুষদের মধ্যে স্লিপ বিতরণ করেন। আজ সকাল ১০টা থেকে স্লিপ হাতে দিঘী দক্ষিণপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ফসলের মাঠে জড়ো হন তাঁরা। লাঠিতে ভর করেও এসেছেন কয়েকজন বৃদ্ধ। বেলা ১১টায় নারী-পুরুষকে পৃথকভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, এসবিএসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাজহারুল হাসান, আল–আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মুক্তকণ্ঠের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন, স্থানীয় গড়পাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আবদুল খালেক ও সমাজসেবক আমজাদ হোসেন।

কম্বল পেয়ে খুশি বিধবা রহিমা বেগম (৬০) বলেন, ‘ঠান্ডায় ঘরের বাইরে যাওন যায় না। হাত-পা কোকড়ায়ে যায়। বয়স হইছে, কামকাজ করার পারি না। তোমাগো এই কম্বলটা খুব কাজে দিব।’

রূপচান মিয়া (৬৫) বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না, তার ওপর অসুস্থ। তিনিও কম্বল নিতে এসেছিলেন। কম্বল পেয়ে বলেন, ‘আমাগো মতো অসহায় মানুষের কথা আপনারা চিন্তা করেছেন, আল্লাহ আপনাগো মঙ্গল করুক।’

আলো রাজবংশীর (৬৫) স্বামী নেই। ছেলেরা মাছ বিক্রি করে যা উপার্জন করে তা দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার চলে না। বিধবা আলোও এসেছিলেন কম্বল নিতে। কম্বল পেয়ে আনন্দে তিনি বলেন, ‘আমাগো মাঝিপাড়া কেউ কিছু দেয় না। এই শীতে কেউ খোঁজখবরও ন্যায় নাই। শীতে গা কুকড়াইয়্যা যায়। বয়স হয়েছে, কাজও করতে পারি না। এই কম্বল পেয়ে শীত পার করবার পারুম।’

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুনশীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।