ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এতে তার বাবা ও বোনও আহত হয়েছেন। আজ রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত নারী লাকি বেগম (৪৫)। তিনি দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়ির মোহাম্মদ মোস্তফার স্ত্রী।

আহতরা হলেন মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) ও তাঁর মেয়ে মোসাম্মদ মিথিলা মোস্তফা (১৮)। মিথিলা রাজাপুর আলিম মাদ্রাসার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত ছেলে মোহাম্মদ রাফিক (২১)কে পুলিশ আটক করেছে। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এলাকাবাসীর জানানো, রাফিক মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। পুলিশ জানায়, অনলাইনে অর্ডার করে ছুরি কিনে সেই ছুরি দিয়ে মাকে হত্যা করেন রাফিক।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুসারে, রোববার রাতে রাফিক বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে টাকা চায়। লাকি বেগম টাকা দিতে না পারার কথা বললে রাফিক ধারালো ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে লাকি বেগম ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।

পরে বোন মিথিলাকে ছুরিকাঘাত করলে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা। তখন তাঁদের দুজনকেও ছুরি মারা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে রাফিক পালানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে তাকে আটক করে।

আহত তিনজনকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই লাকি বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আহত মোস্তফা ও মিথিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রাফিককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দুটি ছুরি কিনেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ।

ওসি আরও বলেন, লাকি বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।