বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামীকাল সোমবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করেছেন।
আজ রোববার বিকেলে ‘সাধারণ শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব ঘোষণা জানানো হয়। এর আগে আজ দুপুরে প্রক্টর রাহাত হোসাইন এবং সিন্ডিকেটের শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেন।
প্রক্টর রাহাত হোসাইন পদত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করে বিকেলে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে উপাচার্য যে তালবাহানা করছেন, তাতে এই পরিবেশে তাঁর সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব। তাই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম মুক্তকণ্ঠকে জানান, প্রক্টর ও সিন্ডিকেটের ৯ শিক্ষক, যাঁরা প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন, সবাই সেখান থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রমে সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষকদের এই কর্মসূচির ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে সেশনজটের আশঙ্কা বেড়েছে।
শিক্ষকরা জানান, পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয় এবং পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর সমঝোতা হয়। সেই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষকরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন।
শিক্ষকরা আরও জানান, তাঁদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ৮ মে ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে যৌক্তিক সমাধান হবে। কিন্তু গতকাল শনিবার সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষকরা রোববার সভা করে শাটডাউন ঘোষণা দেন এবং উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে—আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকেরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক।”
দুই শিক্ষকের প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “আমার কাছে এখনো পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তাঁরা অব্যাহতি নেবেন, তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।”
পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের ২০১৫ সালের বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে সেই প্রক্রিয়া আটকে দিয়ে ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে পরামর্শ দেয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অভিন্ন নীতিমালায় যুক্ত হলেও বরিশালসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি। তাই আগে ২০২১ সালের নিয়োগ সংবিধি সিন্ডিকেট পাস করে ইউজিসির অনুমোদনের পর পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে উপাচার্য অবস্থান নিয়েছেন।






