অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত রোধ করতে রাজশাহী, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিপক্ব আমের সঠিক সময়ে বাজারজাত নিশ্চিত করতে আজ রোববার সভায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে এই ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেছে।
সময়সূচি অনুসারে, ১৫ মে থেকে রাজশাহীর বাগানে গুটি আম নামানো শুরু হবে। নওগাঁয় ২২ মে গুটি ও স্থানীয় জাতের আম পাড়া শুরু করবেন চাষিরা। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে গুটি, গোপালভোগ ও বোম্বাই আম সংগ্রহ করে আম পাড়া শুরু হয়েছে, তবে অন্যান্য জাতের জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা।
এর আগে রোববার সাতক্ষীরায় প্রথম ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ বিভিন্ন বৈশাখী জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যে সেগুলো বাজারে এসেছে।
রাজশাহীতে ১৫ মে গুটি আম পাড়া শুরু হবে, তারপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নত জাতের আম। রোববার বেলা সোয়া তিনটায় নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেন।
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম, ২২ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ, ৩০ মে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি, ১০ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই বারি আম-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা, ১৫ জুলাই গৌড়মতি নামানো যাবে। কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছরই সংগ্রহযোগ্য। কিছু গুটি আম বৈশাখেও পাকলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নসাপেক্ষে নামানো যাবে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “বাজারে পরিপক্ব আমের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হলো।” তিনি এই সময়সূচি মেনে আম নামানোর আহ্বান জানান এবং অপরিপক্ব আম বাজারজাতে আইনানুগ ব্যবস্থার সতর্কতা দেন।
নওগাঁয় ২২ মে গুটি আম দিয়ে পাড়া শুরু, জিআই স্বীকৃত নাক ফজলি ৫ জুন বাজারে আসবে। বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নওগাঁ জেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতওয়ারি আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণী সভা’য় এ সময়সূচি ঘোষণা হয়।
সময়সূচিতে ২২ মে গুটি, ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি, ৫ জুন নাক ফজলি, ১০ জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন।
চলতি বছর নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম চাষ, প্রতি হেক্টরে ১২.৭৮ টন হিসেবে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন লক্ষ্য। কৃষি বিভাগ ধারণা, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম-বাণিজ্য হবে। এবার ২০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই অপরিপক্ব আম সংগ্রহ কিংবা বাজারে তোলা যাবে না।” পরিপক্বতার জন্য এ সময়সূচি, আবহাওয়ায় পরিবর্তন হলে পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমে রাসায়নিক মিশিয়ে পাকানো বা ভেজাল বন্ধে নজরদারি বাড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, “ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ করতে জেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।” মূলত পরিপক্ব রাসায়নিকমুক্ত আম খাওয়ানোর উদ্দেশ্য। গত বছর ১০০ মেট্রিক টন রপ্তানি হয়েছে, এবার ২০০ টন লক্ষ্য।
চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে আঁটি, গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই দিয়ে আম পাড়া শুরু। রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি কর্মকর্তা, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সময়সূচি ঘোষণা হয়।
ক্যালেন্ডারে ১৩ মে আঁটি, গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই, ২২ মে হিমসাগর, ২৮ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাঁড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ৩০ জুন আশ্বিনা (বারি-৪), ৫ জুলাই কাটিমন, ৩১ জুলাই গৌড়মতি।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ফল ও আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস মহলদার বক্তব্য দেন। সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত, ১৩ মে সাড়ে ১১টায় পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়িতে আবদুল কুদ্দুস মহলদারের বাগানে আনুষ্ঠানিক আম পাড়া শুরু হবে। গত বছর ১৫ মে শুরু হয়েছিল।
কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, গত বছর ‘অফ ইয়ার’ হলেও এবার ভালো ফলনের আশা। জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টরে আমবাগান, হেক্টরপ্রতি ১৩.৯২ মেট্রিক টন হিসেবে ৩ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন উৎপাদন সম্ভাব্য।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “স্বাদে-গন্ধে দেশজুড়ে চুয়াডাঙ্গার আমের সুনাম আছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো।” অপরিপক্ব আম পাড়া যাবে না।
সাতক্ষীরায় ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু। গত রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ’ সভায় সময়সূচি ঘোষণা হয়।
ক্যালেন্ডারে ১৫ মে হিমসাগর, ২৭ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি। চলতি মৌসুমে ১০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্য। রপ্তানিযোগ্য মানের জন্য সময় মেনে চলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও তদারকি দল কাজ করবে। প্রচারণাও চলবে।






