গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক মা, তাঁর তিন মেয়ে ও এক ভাইসহ পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষ করে মৃতদেহগুলো স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন মৃতদেহগুলো গোপালগঞ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

জেলা প্রশাসনের একটি ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে, সাধারণত বেলা ২টার পর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে। কিন্তু নিহতদের মৃতদেহ গোপালগঞ্জে নেওয়া হবে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় দ্রুত পচন ধরার আশঙ্কা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গতকালই পাঁচজনের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া মৃতদেহগুলো পিকআপে পরিবহন করা হবে জেনে সম্ভাব্য বৃষ্টির কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জে নেওয়ার জন্য দুটি ফ্রিজিং গাড়ির ব্যবস্থা করে।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাত হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে, তবে তাদের নাম জানায়নি।

গতকাল সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের এক বাড়ি থেকে এক নারী, তাঁর তিন মেয়ে ও এক ভাইয়ের মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী পলাতক। পুলিশের ধারণা, তিনিই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।