যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ৩৫ দিন ধরে নিখোঁজ তরুণ ইকরামুল কবিরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে এ অভিযান চালিয়ে লাশটি বের করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করেছে পুলিশ।
নিহত ইকরামুল কবির (২৫) শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আবদুল রশিদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের জানানি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর লাশ গোপন করে ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ ব্যাপারে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সকলে।
গ্রেপ্তারকৃত চারজন হলেন ইকরামুলের স্ত্রী মুন্নী বেগম (২২), মুন্নীর আরেক স্বামী মো. ফরহাদ, মুন্নীর বাবা ফজলু মোড়ল এবং সহযোগী কাকলী খাতুন। মুন্নী এলাকায় বিউটি পারলার চালাতেন।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। মুন্নী পারলার ব্যবসা করেন। ইতিমধ্যে তিনি চারটি বিয়ে করেছেন। ফরহাদ ও নিহত ইকরামুল দুজনই তাঁর স্বামী। হত্যাকাণ্ডের পর মুন্নী থানায় জিডি করতে এসেছিলেন। কিন্তু ইকরামুলের বাবা আবদুর রশিদের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তিনি হত্যা মামলা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ দিন আগে ইকরামুল পাওনা টাকা আনতে মুন্নীর বাড়িতে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। ইকরামুলকে না পেয়ে বাবা আবদুর রশিদ গত শুক্রবার শার্শা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার সূত্রে গতকাল রাতে লাশ উদ্ধার হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে ফরহাদকে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে বসতপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। পরে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মুন্নীদের বাড়ির গোয়ালঘরের পাকা মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধারের খবর ছড়াতেই ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির মেঝের নিচ থেকে লাশ পাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মারুফ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ফরহাদ তাঁর মুঠোফোনের সিম মুন্নীর মুঠোফোনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে সন্দেহ হলে তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।






