কৃষক আবদুর রহিমের দম ফেলার সময় নেই। তিনি ধান নেড়ে চলেছেন। এ কাজে তাঁকে সাহায্য করছেন স্ত্রী আছমা আক্তার, স্কুলছাত্রী মেয়ে তাশফিয়া এবং কলেজশিক্ষার্থী ছেলে রাসেল মাহমুদ। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য, বৃষ্টি ফিরে আসার আগেই ধান ঘরে তোলা।
গতকাল শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বড় হাওরের পাশে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার (আভুরা) সড়কে আবদুর রহিমের পরিবারকে ব্যস্ত অবস্থায় দেখা গেছে। শুধু তাঁর পরিবারই নন, এই ৩০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে হাওরের অনেক কৃষক ব্যস্ত। কেউ ধান শুকাচ্ছেন, কেউ মাড়াই করছেন, আবার কেউ খড় শুকাচ্ছেন।
আবদুর রহিম বলেন, বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খলাগুলোতেও (ধান শুকানোর জায়গা) পানি উঠে গেছে। তিন–চার দিন ধরে রোদ থাকলেও খলাগুলো এখনো ভেজা ও কর্দমাক্ত। তাই সবাই ধান বাঁচাতে এই অলওয়েদার সড়ক বেছে নিয়েছেন। তাঁর মতে, সড়কটি নিয়ে যতই সমালোচনা থাকুক, এখন এটিই হাওরের কৃষকদের শেষ আশ্রয়।
গতকাল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের অলওয়েদার সড়কসহ করিমগঞ্জ, নিকলী ও বাজিতপুরের কিছু অংশ ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের রোদে পানি কমে ডুবে থাকা অনেক ধান ভেসে উঠেছে। শ্রমিকেরা জমি থেকে ধান কাটছেন। ট্রাকসহ ছোট-বড় গাড়ি করে সেই ধান বিভিন্ন জায়গায় মাড়াই করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সড়কের উপর স্ত্রীকে নিয়ে ধান শুকাচ্ছেন আরেক কৃষক তাজউদ্দিন। তিনি বলেন, কখন আবার বৃষ্টি চলে আসে বলা যায় না। এই অল্প সময়ে ভেজা খলায় ধান শুকানো খুব কষ্টকর হতো। আসাদ মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, সড়কের ওপর ধান শুকানোয় গাড়ি চলাচলে কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও এবার কেউ কিছু বলছেন না। চলাফেরায় একটু কষ্ট হলেও সবাই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
কুলা দিয়ে ধান উ wasnিয়ে ময়লা পরিষ্কার করতে করতে কিষানি রহিমা বেগম বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে চার দিন ধরে রইদ পাইতাছি। খলা ভিজ্জে ফেক (কাদা) হইয়া গেছে। ধান শুহানোর জায়গা নাই। তাই ফথের মধ্যেই ধান শুকাইতেছি।’
গতকাল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের অলওয়েদার সড়কসহ করিমগঞ্জ, নিকলী ও বাজিতপুরের কিছু অংশ ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের রোদে পানি কমে ডুবে থাকা অনেক ধান ভেসে উঠেছে। শ্রমিকেরা জমি থেকে ধান কাটছেন। ট্রাকসহ ছোট-বড় গাড়ি করে সেই ধান বিভিন্ন জায়গায় মাড়াই করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া খলায় স্তূপ করে রাখা ধান কিষান-কিষানিরা রোদে নেড়ে দিচ্ছেন।
সড়কের ওপর স্ত্রীকে নিয়ে ধান শুকাচ্ছেন আরেক কৃষক তাজউদ্দিন। তিনি বলেন, কখন আবার বৃষ্টি চলে আসে বলা যায় না। এই অল্প সময়ে ভেজা খলায় ধান শুকানো খুব কষ্টকর হতো। আসাদ মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, সড়কের ওপর ধান শুকানোয় গাড়ি চলাচলে কিছুটা বিড়ম্বনা হলেও এবার কেউ কিছু বলছেন না। চলাফেরায় একটু কষ্ট হলেও সবাই বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা রোদ ওঠায় ও বৃষ্টি না হওয়ায় নদ–নদীর পানি অনেকটা কমে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া অনেক ধানের জমিও ভেসে উঠেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, আবহাওয়া আবার খারাপ হয়ে যাওয়ার আগে কৃষকেরা যাতে সব ধান কেটে ফেলেন, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ৭৫ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।






