রাজবাড়ী শহরে মোটরসাইকেলের সঙ্গে লাশবাহী পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সের সামান্য ঘষা লাগার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী কনস্টেবল বকুল চৌধুরীকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বকুল চৌধুরী রাজবাড়ী পুলিশ লাইনসের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক। স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে পুলিশ মোটরসাইকেল চালক মো. রানা গাজীকে (৩৩) আটক করে। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড চর লক্ষ্মীপুর মহল্লার আশরাফ গাজীর ছেলে। এ ঘটনায় বকুল চৌধুরী বাদী হয়ে দুপুরে রানার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কনস্টেবল বকুল চৌধুরী জেলার বালিয়াকান্দি থেকে লাশ নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর মর্গে আসছিলেন। সঙ্গে ছিলেন কনস্টেবল শামীম মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম। সজ্জনকান্দা বড় মসজিদের সামনে পৌঁছে পাশের মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সামান্য ঘষা লাগলে উভয়ের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। অ্যাম্বুলেন্স বিনোদপুর মর্গের দিকে এগোতে থাকলে ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় রানা পথ আটকে দেন। অ্যাম্বুলেন্স চালককে গালমন্দ করায় উত্তেজনা বাড়ে। একপর্যায়ে বকুল চৌধুরীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে রানাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

মামলার পর বেলা পৌনে তিনটার দিকে আসামিকে রাজবাড়ীর জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেও পুলিশের সিএসআই মো. ইস্রাফিল আহমেদ বিরোধিতা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আসামিপক্ষের লোকেরা আদালত থেকে বেরিয়ে সিএসআই ইস্রাফিলের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।

সিএসআই মো. ইস্রাফিল আহমেদ বলেন, "জামিনের বিরোধিতা করায় আসামির আইনজীবীসহ তাঁদের লোকজন তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহরিয়ার রাজীব বলেন, "অ্যাম্বুলেন্স চালক সাদা পোশাকে অন্যমনস্ক ছিলেন। রেলগেট এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাস ভেঙে যায়। এতে উত্তেজিত হয়ে রানার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালকের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পুলিশকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।" তিনি বলেন, "জামিনের বিরোধিতা নিয়ে আদালতের বাইরে সিএসআই ইস্রাফিল আহমেদের সঙ্গে হালকা তর্ক হয়েছে। এর বাইরে কিছুই হয়নি।"

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, "লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসের ঘষা লাগার অভিযোগে মোটরসাইকেলচালক পুলিশ কনস্টেবল অ্যাম্বুলেন্সচালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামির জামিনের বিরোধিতা নিয়ে সিএসআইয়ের সঙ্গে তর্কবিতর্কের বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।"