বগুড়ায় নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে মা ও সৎবাবাকে পুলিশ আটক করেছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরকোলা তেলিহারা উত্তরপাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় নবজাতকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়। আটকের সময় উত্তেজিত এলাকাবাসীরা মা ও সৎবাবার ওপর চড়াও হয়।
আটক হয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উত্তরপাড়ার দুলাল হোসেন (২৫) এবং তাঁর স্ত্রী নিপা আক্তার (২৩)। নিপা আক্তারের বাবার বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানানো মতে, নিপা আক্তারের প্রথমে গাবতলী উপজেলার বগুড়া শহরের নারুলী এলাকার শুকুর আলীর সঙ্গে বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে কয়েক মাস আগে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। চলতি বছরের রমজান মাসে সদর উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের সঙ্গে নিপার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নিপা একটি সন্তান প্রসব করেন।
নিপা দ্বিতীয় বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং গতকাল শুক্রবার একটি সন্তান প্রসব করেন। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে এক দিন বয়সী নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেন। আজ শনিবার দুপুরে পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নিপা ও তাঁর বর্তমান স্বামী দুলাল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আলী বলেন, এক দিন বয়সী নবজাতকের বাবা নিপা আক্তারের আগের স্বামী বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্বামী ও মা মিলে নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়েছেন, এমন অভিযোগে নিপা আক্তার ও দুলাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা মিললে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।






