অভাবের সংসারে যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে দিনমজুর ওমেদ আলী স্বপ্ন দেখতেন তার একমাত্র মেয়ে রুবিনাকে নিয়ে। বুক ভরা সেই প্রত্যাশা—মেয়ে একদিন বড় হয়ে নামী আইনজীবী হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। সেই স্বপ্নের হাত ধরেই কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে অবস্থিত মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালায় ভর্তি করেছিলেন রুবিনা খাতুনকে।
কিন্তু বাবার স্বপ্নপূরণের পথ দেখে যেতে পারেননি ওমেদ আলী। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অকালে প্রাণ হারান তিনি। এরপর রুবিনার জীবনে দুশ্চিন্তার বোঝা আরও ভারী হয়ে পড়ে। মা শাহিনা বেগম গৃহিণী হলেও উপার্জনের অন্য কোনো পথ নেই। তবু বাবার দেখা স্বপ্নই এখন রুবিনার বেঁচে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়ার প্রধান শক্তি।
বর্তমানে মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী সব বাঁধা উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। রুবিনা জানায়, তার লক্ষ্য স্থির। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ যারা ক্ষমতার দাপটে অন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সে কলম ধরবে। তার আইনি লড়াই হবে সবসময় ন্যায়ের পক্ষে। রুবিনা বলে, ' বাবা চাইতেন আমি যেন আইনজীবী হয়ে গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। আজ বাবা নেই, কিন্তু তার স্বপ্ন আমার সাথে আছে। আমি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।'
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, রুবিনা শুধু পড়াশোনাতেই ভালো নয়, সে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তার আগ্রহ ও পরিশ্রম দেখে মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার শিক্ষকরা তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশ আর দারিদ্র্যের চাপ রুবিনাকে থামাতে পারেনি। বাবার অপূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে লড়াকু মনোবল নিয়েই এগিয়ে চলেছে সে। রুবিনার বিশ্বাস, একদিন সে কালো গাউন পরে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াবে এবং জয় হবে সত্য ও ন্যায়ের।