নাজমুল হোসেনের ব্যাটিংয়ে আগেই মাঠে নামেছিলেন মুমিনুল হক। নন-স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি পুরো সময়টি সাক্ষী হয়েছেন ক্যাপ্টেনের অসাধারণ এক ইনিংসের।

৩১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মাঠে নামা নাজমুল পাকিস্তানি বোলারদের একটুও স্বস্তি দেননি। তাঁর সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গেছেন মুমিনুলও। নিজে তিন অঙ্কে পৌঁছাতে না পারলেও নাজমুলকে দেখেছেন ১০১ রানের দুর্দান্ত প্রদর্শনী করতে।

সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে মিরপুরের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের ইনিংস নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন মুমিনুল, “(নাজমুল) শান্ত যে কাউন্টার অ্যাটাকটা করেছে, এটাতে ওরা অনেক পিছিয়ে গেছে। এ রকম উইকেটে যখন প্রতি–আক্রমণ করে, তখন আসলে বোলাররা ব্যাকফুটে চলে যায়।”

আজ তৃতীয় উইকেটে নাজমুলের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটি গড়েছেন মুমিনুল। দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের এমন বড় জুটি নতুন নয়। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে তারা ২৪২ রান যোগ করেছিল।

নাজমুলের ব্যাটিং কাছ থেকে অনেকদিন ধরে দেখা অভিজ্ঞতা থেকে মুমিনুল বলেছেন, “আমি যখন বাংলাদেশের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি, তখন এ রকম নন-স্ট্রাইকে থেকে তামিম ইকবাল ভাইয়ের ব্যাটিং উপভোগ করতাম। উনি নিউজিল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়ার অনেক খারাপ কন্ডিশনে ভালো ব্যাটিং করতেন। আর আমার চোখে শান্তর আজকের ইনিংসটা তার অন্যতম সেরা।”

টেস্টে নিজের সর্বশেষ ৮ ইনিংসে এ নিয়ে চতুর্থ সেঞ্চুরি পেলেন নাজমুল। ৩৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন। এর মধ্যে ৯ বারই তিনি সেঞ্চুরি পেয়েছেন, ফিফটি পাঁচটি।

টেস্টে অন্তত দুই হাজার রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়ার রেকর্ডে তাঁর (৬১.৫৪%) ওপরে আছেন শুধু ডন ব্র্যাডম্যান (৬৯.০৫%) ও জর্জ হার্ডলি (৬৬.৬৭%)।

মুমিনুল মনে করেন, নাজমুল নিজেকে যে পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেখান থেকে কেউ তাঁকে সরাতে পারবে না। কেন পারবে না, সেটি তুলে ধরেছেন এভাবে—“কনভার্সন রেটটা (ফিফটিকে সেঞ্চুরি বানানো) আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে। হয়তো আরও উন্নতি করবে। ওকে দেখে হয়তো আরেকজনও করবে। আমার কাছে মনে হয়, ওর ওই চাহিদা আছে, ওই ক্ষুধা আছে, দলের জন্য করার ওই ইচ্ছা আছে।”

নাজমুলের এমন ফর্ম দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর শ্রীলঙ্কায় একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে লম্বা সময় কাউকে ফর্ম ধরে রাখতে দেখা যায় না। নাজমুলের জন্য কী পরামর্শ?

মুমিনুলের উত্তর, “একই মানসিকতা যদি থাকে, আলাদা কোনো কিছু চিন্তা না করে খুব বেশি ওপরেও না ওঠা, খুব বেশি নিচেও না নামা। সব সময় একটু মাটিতে থেকে স্বাভাবিক যেভাবে খেলছে, একই মানসিকতায় থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেক সময় মনে হবে ভালো বলটাও মেরে দিই। এ রকম প্যাটার্ন থাকলে নিয়মিতই রান করবে।”