যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে নতুন ধাক্কা দিয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের অধীনে আরোপিত তাঁর সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্ক যৌক্তিক নয় বলে আদালত রায় দিয়েছে। তবে এই রায় শুধুমাত্র দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাদের জন্য শুল্ক স্থগিত করা হয়েছে।

আদালতের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই রায়ে আপিল চলাকালীন অন্য সকল আমদানিকারকের জন্য শুল্ক অব্যাহত থাকবে। এই ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী জুলাইয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। আদালতের মতে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপ ছিল। তবে বিচারকদের একজন মন্তব্য করেন, বাদীপক্ষকে এখনই চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা সময়োপযোগ্য নয়।

প্রায় দুই মাস পর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই শুল্ক নিয়ে আদালতের রায় ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন সময়ে এসেছে রায়টি, যখন আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই রায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পথ খুলে দিয়েছে। তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত একটি আইনের অধীনে ট্রাম্পের ব্যাপক বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক বাতিল করেছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায়কে ‘দুজন উগ্র বামপন্থী বিচারকের’ সিদ্ধান্ত বলে অভিযোগ করেছেন। ওয়াশিংটনে রিফ্লেকটিং পুল সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আদালত নিয়ে আমাকে আর কিছুই অবাক করে না। কোনো কিছুই অবাক করে না। আমরা একটি রায় পাই, তারপর অন্যভাবে কাজ করি।”

ট্রাম্প প্রশাসন বড় বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক পুনর্বহাল করতে চায়। এজন্য তারা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ ব্যবহার করতে ইচ্ছুক, যা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়। এই ধারার অধীনে বর্তমানে তিনটি শুল্ক তদন্ত চলছে, যা জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত সব আমদানিকারকের জন্য শুল্ক স্থগিতের আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যসহ ২৪টি অঙ্গরাজ্যের জোট এমন আদেশ চাইলেও আদালত বলেছে, তাদের এ ধরনের আবেদনের আইনি ভিত্তি নেই। রায়ে উল্লেখ, বেসরকারি বাদীপক্ষ সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নির্দিষ্ট যুক্তি দেয়নি। একজন বাদীর ক্ষতি পুরো ব্যবস্থার ওপর সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞার যথাযথ ভিত্তি হতে পারে না।

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ডরসি অ্যান্ড হুইটনির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের অংশীদার ডেভ টাউনসেন্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবশ্যই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে বিষয়টি ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত ও পরে সুপ্রিম কোর্টে যাবে। তিনি আরও বলেন, অন্য আমদানিকারকেরাও এখন প্রতিকার চেয়ে আদালতে যেতে পারে।