ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আজও মাঠে নামেন অমিত মজুমদার। রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে খেলেন তিনি। ওপেনিংয়ে নামা অমিত ২৪ বলে ১০ রান করে আউট হন, দলটিও পরাজিত হয়। ফলে বিপিএসপিতে ম্যাচ শেষ করে হয়তো হতাশ মনে বাড়ি ফেরেন এই ব্যাটসম্যান।
সন্ধ্যা ছয়টার পর বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তার হতাশা আরও বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিপিএলের দ্বাদশ আয়োজনে দুর্নীতির অভিযোগে চারজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। এদের মধ্যে একজন ক্রিকেটার অমিত মজুমদার।
অমিতের বিরুদ্ধে ‘ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য যেকোনো বিষয়ের ওপর বাজি ধরা, বাজি গ্রহণ করা, লে-বেটিং করা অথবা অন্য কোনোভাবে বাজিতে লিপ্ত হওয়া’ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ১৪ দিনের মধ্যে দায় স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিতে পারেন অথবা অস্বীকার করে ট্রাইব্যুনালে শুনানির অনুরোধ করতে পারেন।
দরজনয়নীয়, অমিত যে বিপিএলের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন, সেই টুর্নামেন্টে তিনি কখনো খেলেননি। টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে ৬ ম্যাচে ৫ ইনিংসে ব্যাট করে মোট ৪৩ রান করেছেন। তবে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত খেলেন।
২০০৮ ও ২০১০ সালের আন্ডার-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সদস্য ছিলেন অমিত। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বড় মঞ্চে রূপায়িত করতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি অনেকটা নিভৃতে চালিয়ে যান।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুলনা বিভাগীয় দলের হয়ে খেলেন অমিত। ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৮ ম্যাচে ২৫.৫৫ গড়ে ২৪২৮ রান করেছেন, দুটি সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটির সঙ্গে। ২০০৯ থেকে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে আজকের রূপগঞ্জ-গাজী গ্রুপ ম্যাচ পর্যন্ত ৯৯ ম্যাচ খেলেছেন। ২৮.০৯ গড়ে এক সেঞ্চুরি ও ১৬ ফিফটিসহ ২৫৮৫ রান তৈরি করেছেন।
সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় আপাতত খেলতে পারবেন না অমিত। ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্যমতে, তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিপিএলের পাশাপাশি আইপিএলেও বেটিংয়ের প্রমাণ পেয়েছেন। এখন দেখা যাবে, এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িকই থাকে নাকি লম্বা সময়ের হয়। মুক্তকণ্ঠের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলেও অমিত সাড়া দেননি।






