রিয়াল মাদ্রিদ দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। টানা দ্বিতীয় মৌসুম ট্রফিহীনভাবে শেষ করার পথে থাকা ক্লাবটির এই দুর্দিনা দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকেও প্রভাবিত করেছে। মৌসুমের শেষদিকে এসে বিভিন্ন ঘটনা দলের অস্থিরতার স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এল ক্লাসিকোর অনুশীলনে দলের দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনির মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তীব্র বাকবিতণ্ডা দ্রুত উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পরিণত হয়। এ সময় দুজনই একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই বিরোধ ড্রেসিং রুম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার বড় ইঙ্গিত হিসেবে এ ঘটনাটি দেখা হচ্ছে এবং তা দ্রুত পুরো দলে ছড়িয়ে পড়েছে।

রিয়াল যে শিরোপাহীন মৌসুমের চাপ সামলাতে পারছে না, সেটা এসব বিব্রতকর ঘটনাতেই স্পষ্ট। শুধু ভালভের্দে-চুয়ামেনির হাতাহাতি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা দলের সংহতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে মতবিরোধ এতটাই বেড়েছে যে অনেকে একে অপরের সঙ্গে কথাই বলেন না। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র তথ্য অনুসারে, কোচ আলভারো আরবেলোয়ার জন্য পরিবেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্তত ছয়জন খেলোয়াড় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

এর আগে আন্তোনিও রুডিগার ও আইভারো কারেরাসের মধ্যকার বিরোধের খবরও সামনে এসেছিল। তবে কারেরাস জানিয়েছেন, রুডিগারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এখন মিটে গেছে। পাশাপাশি ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিয়ালে চলমান বিতর্কের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পের নামও উঠেছে। চোটের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরে তাঁকে নিয়ে অস্বস্তির খবর এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইতালিতে তাঁর অবকাশযাপন নিয়েও সমালোচনা চলছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি এত তীব্র হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে হয়েছে। এমবাপ্পেকে রিয়াল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে ‘এমবাপ্পে আউট’ নামে খোলা পিটিশনে এরই মধ্যে আড়াই কোটির বেশি লোক স্বাক্ষর করেছেন।

সব মিলিয়ে মাঠের ব্যর্থতা রিয়ালের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। পুরো মৌসুমটি দলটির জন্য যেন এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে মৌসুম দ্রুত শেষ হলেই যেন সবাই হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে।