প্রযুক্তি এখন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পৌঁছে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এর নতুন উদাহরণ দেখা গেল রোবট ভিক্ষু ‘গাবি’র মাধ্যমে। গতকাল বুধবার সিউলের যোগে মন্দিরে এই রোবট ভিক্ষুকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য কোরিয়া টাইমস জানিয়েছে, বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে সিউলের যোগে মন্দিরে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গাবি অংশ নেয়। প্রায় ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই রোবটটি চীনের ইউনিট্রি জি ১ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অনুষ্ঠানে গাবির পরনে ছিল ধূসর ও বাদামি রঙের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধভিক্ষুর পোশাক। রোবটটিকে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে দেখা গেছে।
দ্য কোরিয়া টাইমসের তথ্যমতে, গাবি নামটি সিদ্ধার্থের নাম এবং কোরিয়ান ভাষায় ‘করুণা’ শব্দের ভাবার্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক যোগে অর্ডার জানিয়েছেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে বৌদ্ধধর্মের সংযোগ জোরদার করা এবং মন্দিরগুলোতে সন্ন্যাসীর ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ তরুণদের কাছে ধর্মীয় চর্চাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করবে। ভবিষ্যতে বুদ্ধপূর্ণিমার শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনে গাবিকে সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যেতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মানবাকৃতির রোবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একসময় পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি মনে করা হলেও এখন এগুলো ক্রীড়া, উৎপাদনশিল্প, জনসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মানবাকৃতির রোবটের বাজার ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। উৎপাদনশিল্প, সরবরাহব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও সেবা খাতে এসব রোবটের ব্যবহারের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, রয়টার্স






