যুক্তরাজ্য সরকার মানবপাচারের অভিযোগে একটি বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস) এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। ঘোষণাটি যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
দেশটির বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিধিমালা ২০২৫–এর আওতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপ নেয়। তারা জানায়, এই বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানিটি রাশিয়ায় মানবপাচারে জড়িত। পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের ১৭ ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় ৫ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানিটির নাম।
নথি অনুসারে, নিষেধাজ্ঞায় পড়া কোম্পানির নাম ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। এর ঠিকানা হিসেবে ঢাকার বনানীর একটি বাড়ির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপের মধ্যে সম্পদ জব্দও রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সন্দেহের যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড যুক্তরাজ্যের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা বিধিমালার আওতাভুক্ত একটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এটি মানবপাচার–সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপে জড়িত ছিল বা আছে।
যুক্তরাজ্য সরকার আরও ব্যাখ্যা করে বলেছে, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ কার্যক্রমে জড়িত ছিল এবং পরে তাদের শোষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার সেবা খাতে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশি নাগরিকরা রাশিয়ায় পৌঁছে জোরপূর্বক ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসী যুদ্ধের সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করতে বাধ্য হয়।






