মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও সদরের ঈদগাহ বাজারে এক কিশোরকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বিষয়টি লক্ষ্য করে কাছে গিয়ে তার কারণ জানতে চান। কিশোরের কথায় অসংগতি ধরে তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঈদগাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুনীল বড়ুয়া বলেন, কিশোরের নাম সৌরভ দাস (১৩)। সে বরিশাল নগরের একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। গত ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে মায়ের জন্য খিচুড়ি কিনতে গিয়ে সৌরভ নিখোঁজ হয়। চার দিন পর তাকে ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার করা হয়। ছেলেটিকে বরিশাল থেকে কক্সবাজারে কীভাবে নিয়ে আসা হয়েছে এবং কারা এর পেছনে আছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

এসআই সুনীল বড়ুয়া জানান, উদ্ধারের সময় সৌরভের পকেটে দূরপাল্লার বাসের দুটি টিকিট এবং ১০ টাকা পাওয়া গেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসায় সৌরভ বলে, খিচুড়ি কেনার সময় এক অপরিচিত ব্যক্তি তার কাছে ঠিকানা জিজ্ঞাসা করেছিল। এরপর তার আর কিছু মনে নেই। সৌরভ এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি ‘শয়তানের নিশ্বাস’ চক্রেরই কাজ হতে পারে। বর্তমানে সৌরভ সুস্থ রয়েছে, সে কথা বলতে পারছে। উল্লেখ্য, ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ নামক এই ড্রাগের রাসায়নিক নাম ‘স্কোপোলামিন’। এটি দিয়ে মানুষকে হিপনোটাইজ করে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিফাতুল মাজদার বলেন, শিশুটি উদ্ধারের পর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সৌরভের মামা দীপ্ত কুমার ঘোষ থানায় পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে বরিশালের কাউনিয়া থানার একজন এসআইও এসেছেন। সৌরভকে তাদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বরিশাল থেকে কক্সবাজারে আসার রহস্য উদঘাটন করবে বরিশাল পুলিশ।

মামা দীপ্ত কুমার ঘোষ বলেন, ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মায়ের জন্য খিচুড়ি কিনতে বাসা থেকে বের হয় সৌরভ। তখন সে এক দোকানে গিয়ে বিকাশ থেকে ৮ হাজার টাকা ওঠায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ। একই রাতে তার মুঠোফোন এক স্কুলের মাঠ থেকে উদ্ধার হয়, যা এক অপরিচিত ব্যক্তি কুড়িয়ে পান এবং কাউনিয়া থানায় জিডি করেন।

চার দিন ধরে ছেলের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন মা মিতু রানী দাস। কক্সবাজার থেকে খবর পেয়ে তিনি বলেন, খিচুড়ির অর্ডার দিয়ে দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিল সৌরভ। তখন এক ব্যক্তি ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সঙ্গে সঙ্গে সে জ্ঞান হারায়। মায়ের দাবি, ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।