কুমিল্লা নগরে স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে জান্নাতুন নাঈম ওরফে ফারিহা (২৩) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করলেও জান্নাতুনের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরের মনোহরপুর মুন্সেফবাড়ি এলাকার কাশেম গার্ডেন নামের ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আজ বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নিহত জান্নাতুন নাঈম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামের স্কুলশিক্ষক হানিফ মিয়ার বড় মেয়ে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান ওরফে হৃদয় আত্মগোপনে আছেন। মেহেদী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে পারিবারিকভাবে মেহেদীর সঙ্গে বিয়ে হয় জান্নাতুন নাঈমের। বিয়ের পর মেহেদী বৃত্তি নিয়ে চীনে গেলেও সফল হতে না পেরে দেশে ফিরে আসেন। এরপর বেকারত্ব ও সাংসারিক ভরণপোষণ নিয়ে এই দম্পতির মধ্যে কলহ শুরু হয়। গত সোমবার বাবার বাড়ি থেকে কুমিল্লায় স্বামীর বাসায় আসেন জান্নাতুন নাঈম। এক দিন পরই তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
জান্নাতুনের বাবা হানিফ মিয়া আহাজারি করে বলেন, ‘আমার মেয়েটাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত হৃদয়। সে আমার মেয়েকে মেরে জেল খাটার হুমকিও দিয়েছিল আগে। ফারিহার খুব ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার; কিন্তু পাষণ্ড স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে সব শেষ হয়ে গেল।’ তিনি অভিযোগ করেন, ফারিহাকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
এদিকে জান্নাতুন নাঈমের মরদেহ উদ্ধারের সময়ের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটিতে দেখা গেছে, বিছানার ওপর একটি চেয়ার। জান্নাতুন নাঈমের একটি পা বাঁকা অবস্থায় বিছানায় রয়েছে। আরেকটি পায়ের হাঁটু চেয়ারের মধ্যে। এমন অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে তাঁর মরদেহ ঝুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় যে অবস্থা দেখা গেছে, তাতে মেয়েটি আত্মহত্যার করেছে বলে মনে হয় না। পুলিশ দরজা বন্ধ অবস্থায় মরদেহ পেয়েছে। তবে বর্তমানে ফ্ল্যাট বাসায় দরজা ভেতর ও বাইরে দুই দিক থেকেই তালা দেওয়া যায়। তারপরও পুরো ঘটনাটি ভালোভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জামাল নাছের মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘জান্নাতুন নাঈম আমাদের অন্যতম মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছাত্রী ছিল। আত্মহত্যা করার মতো মেয়ে সে নয়। তার এমন মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে; আমরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেছি। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে স্বামী আত্মগোপনে আছেন। এটা ভয়ের কারণে হতে পারে। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।






