চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় একটি পেট্রলপাম্পে ইঞ্জিন অয়েল নিতে গিয়ে পুলিশের এক কনস্টেবল মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।
গোমস্তাপুর ও নাচোল থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারধরের শিকার কনস্টেবল মো. শওকত নাচোল থানায় কর্মরত এবং তিনি পুলিশের গাড়িচালক। রোববার দুপুরে উপজেলার খয়রাবাদ এলাকায় রায়হান ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নাচোল থানার মেরামতাধীন একটি গাড়ির জন্য ইঞ্জিন অয়েল আনতে পাঠানো হয় কনস্টেবল ও গাড়িচালক শওকতকে। পাম্পকর্মীদের কাছে নির্ধারিত স্লিপ জমা দিয়ে তিনি সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় পাম্পের মালিকের ছেলে ও গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল রায়হান তাঁকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু কনস্টেবল শওকত নিজের পরিচয় দিয়ে রায়হানকে বলেন ইঞ্জিন অয়েল দিতে। একপর্যায়ে রায়হান রাগান্বিত হয়ে শওকতের গালে থাপ্পড় মারেন এবং লাঠি দিয়েও মারধর করা হয়। ওসি আরও বলেন, শওকতের গাল ও শরীরে আঘাতজনিত কালশিটে দাগ রয়েছে। তাঁকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোমস্তাপুর থানার ওসি মো. নূরে আলম আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে বলেন, রায়হান ফিলিং স্টেশনের তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল রায়হানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল রায়হান ও তাঁর বাবা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে রায়হানের বড় ভাই ও গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল গণি হামিদ চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা সেখানে ছিলাম না। বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। পরে এ বিষয়ে আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে।’
গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আবদুল্লাহ আল রায়হান যে কমিটির সভাপতি ছিলেন, সেটি সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।






