বিশ্বকাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সতর্ক করল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং দেশটিতে বাড়তে থাকা ‘স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও সহিংসতা’র কারণ দেখিয়ে এই বিশেষ ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন মানবাধিকার সংগঠন যৌথভাবে এই সতর্কবার্তা দেয়। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। ফিফা কিংবা আয়োজক শহরগুলোর পক্ষ থেকে দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ বা সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পেয়েই তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

.

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি, বিশ্বকাপে খেলা দেখতে আসা দর্শক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অযৌক্তিক বাধার মুখে পড়তে পারেন। এমনকি তাঁদের ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের তল্লাশি চালানো হতে পারে।

এ ছাড়া ‘অমানবিক’ পরিস্থিতিতে আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও মিনিয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে বর্ণবাদী আচরণ এবং বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

.

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মানবাধিকার গ্রুপগুলোর এই ভ্রমণ সতর্কবার্তাকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জিওফ ফ্রিম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকা ভ্রমণে বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি রয়েছে—এমন দাবি মোটেই সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অর্থনৈতিক ক্ষতির উদ্দেশ্যে এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। তিনি জানান, গত বছরেও দেশটিতে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক গেছেন।

.বিশ্বকাপে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কায় অ্যামনেস্টি.

ভ্রমণ সতর্কতার বিষয়ে ফিফার একজন মুখপাত্র সংস্থাটির বেশ কিছু বিবৃতি ও নীতির কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, ‘ফিফা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব মানবাধিকারকে সম্মান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই অধিকারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকবে।’

উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টের ১০৪ ম্যাচের ৭৮টিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি ভেন্যুতে।

.যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ভিসা বন্ড দিতে হবে বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দেরও