গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকের সামনে রাতের আঁধারে ফেলে রাখা বর্জ্য অবশেষে অপসারণ করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে খননযন্ত্রের সাহায্যে ট্রাক নিয়ে সরানো হয় এসব বর্জ্য।

বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে জানান, কারা এই বর্জ্য ফেলেছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা কোথাও ময়লা ফেলি না, আমরা কেবল অপসারণের কাজ করি। ময়লা ফেলা আমাদের কাজ নয়।’

.ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ফটকের সামনে রাতের আঁধারে বর্জ্য ফেলল কারা, প্রশ্ন কর্তৃপক্ষের.

এর আগে আজ ভোরে উদ্যানের মূল ফটকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক–সংলগ্ন স্থানে বর্জ্য দেখতে পায় পার্ক কর্তৃপক্ষ। ফলে পর্যটকদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হতে থাকে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে উদ্যানে যানবাহন প্রবেশেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রচার হওয়ায় সিটি করপোরেশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। সিটি করপোরেশনের লোকজন বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেছেন, কারা এই কাজ করেছে—তা নিয়ে তাঁরা তদন্ত করবেন। ময়লার ভাগাড় নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের আইনি ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে পার্কের গেটে এভাবে ময়লা পড়ে থাকার ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক।’

.

উল্লেখ্য, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সীমানাপ্রাচীরের ভেতর একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) বা ময়লার ভাগাড় নির্মাণ করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। বন বিভাগের কঠোর আপত্তি ও আইনি সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চলমান আছে। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার মুক্তকণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে ‘গাজীপুর সিটিতে সংরক্ষিত বনে ভাগাড় নির্মাণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, গায়ের জোরে উদ্যানের দেয়াল ভেঙে ময়লা ফেলার স্থাপনা নির্মাণ করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত।

.গাজীপুর সিটিতে সংরক্ষিত বনে ভাগাড় নির্মাণ