চট্টগ্রাম নগরের সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিকেরা। আজ শনিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তাঁরা সিআরবি এলাকায় আবারও হাসপাতাল প্রকল্প স্থাপন নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা এই প্রকল্প স্থায়ীভাবে বাতিল করার দাবি জানান।
আগামীকাল রোববার বিকেল চারটায় রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সিআরবি এলাকায় রেলওয়ের প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এদিন সিআরবি এলাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিআরবি রক্ষা মঞ্চ।
সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য মোজাম্মেল হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বোর্ড সদস্য ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন, প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সিআরবি রক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, সুশাসনের জন্য নাগরিক চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবীর চৌধুরী, প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ ও ওমর কায়সার, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও বেলা নেটওয়ার্ক সদস্য আলীউর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির চট্টগ্রাম সমন্বয়ক মনিরা পারভীন, পরিবেশ সংগঠন গ্রিন ফিঙ্গার্সের প্রতিষ্ঠাতা আবু সুফিয়ান ও রিতু পারভী।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সিআরবিকে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ড্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিআরবির কোনো অংশকে ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পাখির অভয়ারণ্য, জাদুঘর, প্রজাপতি উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান অপিনিয়নের (ইকো) গবেষণায় পাওয়া গেছে, সিআরবিতে ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৮৩টি ঔষধি গাছ। গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ ৩৪ প্রজাতির। লতাজাতীয় উদ্ভিদ ৩৪ প্রজাতির। বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ৯টি। এখানে রয়েছে ৮৮টি বৃক্ষ। যার মধ্যে শতবর্ষী গর্জন ও শিরীষগাছ। এসব বৃক্ষ ও উদ্ভিদের কারণে সিআরবি এলাকাকে চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে থাকেন পরিবেশবিদেরা।
এদিকে, একই দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বিবৃতিদাতারা হলেন চট্টগ্রামের কো–চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ও মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী, যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান বাদল, মহসীন কাজী ও সদস্য আমিনুল ইসলাম।
চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতালের নামে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে আগামীকাল রোববার সকালে সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন সিআরবি রক্ষা মঞ্চ।






