বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তির উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণচ্ছটা ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ঘুড়ি উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।

উদ্বোধনের সময় উপাচার্য বলেন, চৈত্রসংক্রান্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘুড়ি উৎসব একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসব শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন সাংস্কৃতিক আয়োজন জ্ঞানচর্চার পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি এবং ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন রুমানা হক, কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রবিষয়ক পরিচালক মো. নাজমুস সাদাত, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।

ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। আকাশজুড়ে উড়ছিল নানা রং ও আকৃতির ঘুড়ি। প্রজাপতি, সাপ, চিল, ইগল ও মাছ আকৃতির ঘুড়িগুলো বিশেষভাবে দর্শকদের আকর্ষণ করেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই আয়োজন চৈত্রসংক্রান্তির ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন বাংলা বছরকে উৎসবমুখর আনন্দে স্বাগত জানিয়েছে।

এদিকে, আগামীকাল ১৪ এপ্রিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদ্‌যাপিত হবে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে সকাল ৯টায় বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হবে। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় মাঠ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এছাড়া বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী মেলায় বিভিন্ন আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।