জ্বালানি সংকট চরমে থাকা এ সময় অর্ধশতাধিক মোটরগাড়ি নিয়ে আগাম নির্বাচনী শোভাযাত্রা করে সংগঠনের ভাবমূর্তি কলুষিত করার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিককে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা জানাতে গতকাল রোববার বিকেলে মাসুদ রানা মোটর শোভাযাত্রা আয়োজন করেন। এতে অর্ধশতাধিক মোটরগাড়িতে প্রায় ৪০০ নেতা–কর্মী অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চাঁচকৈড় বাজারে শেষ হয়। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নজরে আসে। আজ সকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাসুদ রানাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দলীয় পদ হারানোর কথা স্বীকার করে মাসুদ রানা বলেন, ‘এটা ভুল–বোঝাবুঝি হয়েছে। আমি কোনো গাড়িতে তেল ব্যবহার করিনি। সব গাড়িই এলপিজি ও সিএনজিতে চলেছে। বর্তমানে এলপিজির কোনো সংকট নেই। আর কর্মসূচিটি ছিল বহু পুরোনো। ব্যস্ততার কারণে করতে না পারায় গাড়ির চালকদের ইচ্ছায় রোববার শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হয়।’
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানিসংকটের কারণে যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন, সেখানে মাসুদ রানা কীভাবে অর্ধশত গাড়ি নিয়ে শোডাউন করেন? ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছিল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তাঁদের নির্দেশে মাসুদ রানাকে বহিষ্কারাদেশের চিঠি পাঠানো হয়েছে।’






