ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ধলপুর এলাকার একাধিক টিকাকেন্দ্রে শিশু ও অভিভাবকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল সাড়ে নয়টায় আলো ক্লিনিকে দেখা গেছে, স্থানীয়রা তাঁদের শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে এনেছেন। তখন ভিড় তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এখানে ৩৭টি শিশু টিকা গ্রহণ করেছে।
আট মাসের শিশুকে টিকা দিতে এসেছেন পারভীন বেগম। তিনি বলেন, “গতকাল এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। সেখান থেকেই জেনেছি, আজ টিকা দেওয়া হবে।”
অন্য এক অভিভাবক মো. রাজন বলেন, “টিকা পেয়েছি, কোনো সমস্যা হয়নি।”
তবে আলো ক্লিনিকের এক নার্স জনবলের ঘাটতি নিয়ে জানান। তিনি বলেন, টিকার কোনো অভাব নেই, কিন্তু জনবল কম থাকায় আগের দিন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়নি।
ডিএসসিসির জনসংযোগ শাখা জানায়, সংস্থার আওতায় মোট ৫৪০টি টিকাকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বেলা সাড়ে ১১টার পর নগর মাতৃসদন কেন্দ্র-ধলপুরে গিয়ে শিশু-অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। এখানে প্রথমে এক কক্ষে শিশুদের তথ্য কার্ডে নথিভুক্ত করা হয়, তারপর সেই কার্ড দেখিয়ে পাশের কক্ষে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
টিকাদানকর্মীরা বলেন, নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে শতাধিক শিশু টিকা নিয়েছে।
পাঁচ বছরের সন্তানকে টিকা দিতে এসেছেন মো. মাসুম। তিনি বলেন, “আমার ছেলে টিকা পেয়েছে। নিতে কোনো সমস্যা হয়নি।”
নগর মাতৃসদন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে চারটি টিকাকেন্দ্র চলছে। এসব কেন্দ্রসহ মোট পাঁচটি কেন্দ্রে গতকাল ১ হাজার ২৫১ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলো ক্লিনিকে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১০, পূরণ হয়েছে ৯৬। সায়েদাবাদ ক্লিনিকে লক্ষ্য ২৮৮ হলেও ৩১০ জন টিকা পেয়েছে। রাড্ডা ক্লিনিকে লক্ষ্য ১৮৮, টিকা পেয়েছে ১৬২ শিশু এবং জনকল্যাণ সমিতিতে লক্ষ্য ১৮৯, টিকা পেয়েছে ২০৫ শিশু।






