কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় তাঁর পরিবার কোনো মামলা করবে না। আজ সোমবার সকালে মুক্তকণ্ঠকে এ কথা নিশ্চিত করেছেন আবদুর রহমানের বড় ভাই, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান। এ ঘটনায় আজ দুপুর পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘রাতে পরিবারের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনো মামলা করব না। যে চলে গেছে, তাঁকে তো ফিরে পাব না। আর অযথা কোনো ঝামেলাতে যাব না। আমরা সাদাসিধা মানুষ।’ বয়স ৭০–এর বেশি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মামলা করতে হলে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে। তদবির করতে হবে। আর পরিশ্রম করতে চাচ্ছি না।’ কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘না, কোনো চাপ নাই। দরবারে এখনো পুলিশ আছে।’

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবার থেকে জানানো হয়েছিল আজ সকালে এসে মামলা করবে। কিন্তু তাঁরা কেউ আসেননি। জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—কয়েক বছর আগের ৩০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও গত শুক্রবার সকাল থেকে সাতটি আইডি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন এক নেতা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার সকালে শামীমের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। এরপর দুপুরের পর তারা ওই দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ভক্ত বললেন, ‘বাবা হাতজোড় করেছিল, কথা বলার সুযোগ চেয়েছিল’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের পাকা সড়কে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিয়ে শামীমের দরবারের দিকে যায়। মিছিলে থাকা লোকজনের একটি অংশ তাঁর দরবারের একতলা দুটি পাকা ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ভবনের ছাদসহ ঘরগুলোয় ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় ওই দরবারের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যরা দৌড়ে চলে যান। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভান।