মৌসুমী ও সালমান শাহ অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দেখে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন শিমলা। বারবার সিনেমাটি দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ অনুসরণ করতেন। গতকাল তাঁর জন্মদিন। এই নায়িকা বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে সিনেমায় নাম লেখান এবং প্রথম ছবিতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন।

এর আগে মুক্তকণ্ঠকে শিমলা বলেছিলেন, ‘আমি “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” দেখে নায়িকা হয়েছি। সিনেমাটি দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ নকল করতাম। মাকে বললাম, আমি নায়িকা হব। মা ভাবলেন, আমি পাগলটাগল হয়ে গেলাম মনে হয়, ভাবলেন আমার মাথা ঠিক নাই। পড়াশোনা গেল গোল্লায়। কোনোমতে এসএসসি পাস করে ইন্টারে ভর্তি হই। সিনেমার নেশায় এরপর আর পড়াশোনা হয়নি।’

কিশোরী শিমলা বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহ থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসেন। পরিচিতজনের মাধ্যমে গুণী পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর সাহস দেখে পরিচালক পছন্দ করেন এবং সুযোগ দেন। ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবিতে শিমলা অভিনয় করেন। ছবি মুক্তির পর তিনি পরিচিত হন এবং প্রথম ছবিতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

‘ম্যাডাম ফুলি’ দিয়ে জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর ক্যারিয়ারে কোনো বাধা আর থাকে না। ‘পাগলা ঘণ্টা’, ‘ভেজা বেড়াল’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে জায়গা শক্ত করেন। অল্প সময়ে ৩৫টির মতো ছবিতে কাজ করেন। তবে ২০১৫ সালের পর থেকে দেশের সিনেমায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন।

সমসাময়িক তারকাদের তুলনায় তাঁর ছবির সংখ্যা কম। শিমলা এটাকে ভাগ্যের লিখন বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আমার সময় পরিচালকেরা অন্য ব্যস্ত শিল্পীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা আমাকে নিয়ে ভাবার সময় হয়তো পাননি। তাই যত বেশি কাজ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি।’ তিনি ভালো ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ভাবেননি, শীর্ষে যাওয়ার চেষ্টাও করেননি। নিয়মিত কাজ চেয়েছিলেন। কম কাজের কারণ হিসেবে পছন্দমতো চরিত্র না পাওয়াকে উল্লেখ করেন। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমাকে দর্শকেরা “ম্যাডাম ফুলি” নামে বেশি চেনে। একটি চরিত্র হয়ে দর্শকহৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারাটা একজন শিল্পীর অনেক বড় পাওয়া।’

সর্বশেষ ২০২০ সালের দিকে জানান, ঢালিউড ছেড়ে বলিউডে যাচ্ছেন। মুম্বাইয়ের মীরা রোডে বেশ কয়েক বছর ছিলেন। ‘সফর’ ছবিতে অভিনয়ের কথা বলেছিলেন, কিন্তু পরে সিনেমাটির খবর আর পাওয়া যায়নি। এক বছর পর ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করে আলোচিত হন। সিনেমাটি সেন্সরে আটকে যায়। এতে এক কিশোরের সঙ্গে তাঁর প্রেমের দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক হয়। এটিই তাঁর প্রধান চরিত্রের সর্বশেষ সিনেমা।

নৌকা থেকে ধানের শীষে নেমে শিমলা বললেন, ‘আমাকে নিয়ে নয়-ছয় বলবেন না’। নির্বাচনের সময় এই নায়িকা হঠাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হন। এক বছর আগে আওয়ামী লীগের নৌকায় মনোনয়ন নিতে গিয়েছিলেন, এবার ধানের শীষের প্রচারণায় দেখা যায়। প্রতীক বদলে মাঠে নামায় ভোটের মাঠ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলে।

সমালোচনা নিয়ে শিমলা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমি মোটেও ভোল পাল্টাইনি। আমি একজন শিল্পী, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর আমি যে কারও জন্য ভোট চাইতে পারি। এমনকি যেকোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহও প্রকাশ করতে পারি—এটাতে মোটেও কোনো সমস্যা দেখছি না। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি কোনো দলের কর্মী নই। শিল্পী হিসেবে আমি সবার। যাকে মন চাইবে, আমি তার জন্য ভোট চাইব।’