৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের দুটি সিনেমা মনোনীত হয়েছে—যুবরাজ শামীমের ‘অতল’ এবং আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’। প্রতিযোগিতা শাখার বাইরে ‘অ্যাপক্যালিপ্স নাউ’ সেকশনে স্থান পেয়েছে ‘অতল’, আর আর্টকোর বিভাগে প্রদর্শিত হবে ‘প্রিন্সেস’。
২০২২ সালে মস্কোর ৪৪তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যুবরাজ শামীমের প্রথম সিনেমা ‘আদিম’ প্রিমিয়ার হয় এবং ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’সহ নেটপ্যাক সম্মাননা জিতে নেয়। এবার তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘অতল’ও মস্কোতেই প্রিমিয়ার হবে। এই ছবিতে নির্মাতা অস্তিত্বসংকটে পড়া এক মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা চিত্রিত করেছেন। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘একজন মানুষ, যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যুপরবর্তী জীবন পার করছে কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। যেখানে সময়, চারপাশের সব চরিত্র—সব থমকে আছে। সেটাই সিনেমায় পোর্ট্রে করার চেষ্টা করেছি।’
যুবরাজ শামীমের প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত এটি তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার, যিনি পেশায় ফটোগ্রাফার। তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমাটোগ্রাফিও হ্যান্ডেল করেছেন। অন্যদিকে, আসিফ ইসলামের ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প বয়ে নিয়ে এসেছে, যেখানে দর্শকের চাহিদায় ‘প্রিন্সেস’ নামের এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদা এই সিনেমার মূল বিষয়বস্তু। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।
‘প্রিন্সেস’ চরিত্র নিয়ে অভিনয় করতে গিয়ে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে ওজন বাড়াতে হয়েছে প্রায় ৯ কেজি, শিখতে হয়েছে যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়। ‘“রোজি” চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক—দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। চরিত্রটিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছি,’ বলেন তিনি। আসিফ ইসলামের আগের ছবি ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছিল। উৎসবটি শুরু হবে ১৬ এপ্রিল এবং ২৩ এপ্রিল পর্দা নামবে।






