জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক দিয়েছেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুরের কথোপকথনে র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারার কোনো অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁরা বলেছেন, র‍্যাব ও পুলিশপ্রধান জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলকে নিশ্চিত করেছে যে র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে কোনো গুলি বা বোমা মারা হয়নি। কেবল কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ার শেল) ও সাউন্ড গ্রেনেড মারা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ রোববার এই মামলায় তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক হয়। এসময় প্রথম চারটি অভিযোগের ওপর আলোচনা করা হয়। মামলার আটটি অভিযোগের মধ্যে এগুলোই আজ উত্থাপিত হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. আবুল হাসান ও সিফাত মাহমুদ।

যুক্তিতর্কে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, হাসানুল হকের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে কোনো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা বা উৎসাহপ্রদানের বক্তব্য ছিল না। বরং শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি কোনো ক্যাজুয়ালটি চাই না।’ তিনি আরও জানান, র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে বোমা মারার অভিযোগ ভুল। সেখানে সাউন্ড বোমার কথা বলা হয়েছে। কারণ, তখন রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় পরিস্থিতি এত ভয়াবহ ছিল যে সেনাবাহিনীও প্রবেশ করতে পারছিল না। এ নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও উল্লেখ আছে। সেই কথোপকথনে শেখ হাসিনা বা হাসানুল হক কোথাও আন্দোলনকারীদের হত্যা বা নির্যাতনের কোনো নির্দেশ দেননি।

এই মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।