গত শুক্রবার রাত থেকে ফিলিপনগর এলাকায় ফেসবুকে সাতটি আইডি—তিনটি পেজ ও চারটি ব্যক্তিগত আইডি—দিয়ে ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ানো শুরু হয়। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এই ভিডিওর লিংকগুলো গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত ফিলিপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মেসেঞ্জার ও আইডিতে শেয়ার হয়। সকাল ৯টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে এসে পড়ে এই লিংকগুলোর তথ্য। এ নিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা ফিলিপনগরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভিডিওর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।

আজ রোববার দুপুরে ফিলিপনগরে অন্তত পাঁচজন তরুণ, যুবক ও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এবং পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এ তথ্য পাওয়া যায়। তারা এক চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। তাঁরা জানান, এই ফেসবুক আইডিগুলো বাংলায় লেখা এবং এর মধ্যে ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামটি উল্লেখযোগ্য।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতার কাছে খোঁজ নেওয়া হয় যে দরবারে তাঁদের কোনো বিষয় আছে কি না। তিনি জানিয়েছিলেন, তেমন কোনো বিষয় নেই। তবে আসরের নামাজের পর ইউনিয়নের বেশ কিছু মুসল্লি নিয়ে বৈঠক আছে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে সকাল থেকেই কথা চলছিল। কিন্তু একপর্যায়ে বুঝতে পারি, ওই নেতার কথা সন্দেহজনক। তাঁকে জোর করে বলা হয় যে আপনাদের কোনো বৈঠক বা যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না দরবারে। ওই নেতা বারবার জানিয়েছেন, আসরের পর বৈঠকের কথা কিন্তু সেটা দরবারে না।’ ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম ফিলিপনগর গ্রামে টহল শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে দরবারে দুই থেকে তিনজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। বেলা ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে গ্রামের পাকা সড়ক দিয়ে শতাধিক মানুষ দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও ছিলেন।

পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি ফিলিপনগর এলাকায় খোঁজখবর রাখেন। যে সাতটি আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দুই–একটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এ ছাড়া হামলা–ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকেও শনাক্ত করা গেছে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননা করা অন্যায়, তেমনি কোনো মানুষকে হত্যা করা, বাড়ি ভাঙচুর করা, হামলা চালানোও অন্যায়। আইনের ভিত্তিতে এর সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হবে। পুলিশের একাধিক দল সব বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে সকাল থেকে নিহত পীরের ভক্ত–অনুসারীরা দরবার শরিফে ছুটে আসছেন। তাঁরা ভাঙচুর করা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র দেখছেন। কেউ কেউ কেঁদে উঠছেন। তাঁরা বলছেন, পীর খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর যদি কোনো অন্যায় থাকত, তার আইনে বিচার হতো। এর বিচার হওয়া উচিত। দরবারে বর্তমানে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিজিবির একটি দলও পরিদর্শন করে গেছে।