বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবার ‘বাউ ক্যাট শো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পোষা প্রাণী দিবসের সুযোগে ‘পেট লাভার্স অব বাউ’ সংগঠন এটি আয়োজন করে। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পোষা প্রাণীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হবে। যাঁরা বিড়ালপ্রেমী আছেন, তাঁরা যেন প্রাণীর সঠিক যত্নে বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন এবং পরামর্শ মেনে চলেন, যাতে পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর ও বিনোদনময় থাকে এবং মানুষের সঙ্গে প্রাণীর ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।”
উদ্বোধনের পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অংশ ক্যাট র্যাম্প ওয়াক। এতে বিড়ালপ্রেমীরা তাঁদের প্রিয় পোষ্যদের নিয়ে র্যাম্পে হাঁটেন এবং সৃজনশীল সাজসজ্জায় আলাদা পরিবেশ গড়ে তোলেন। কারও বিড়ালের গায়ে রঙিন পোশাক, কারও গলায় স্টাইলিশ রঙিন বেল্ট, আবার কারও চোখে ছোট্ট কালো চশমা বা গোলাপি ফ্রেম। বিড়াল সাজানোর জন্য নানা নান্দনিক উপকরণসহ স্টল রাখা হয়েছিল, যেখানে খাবার থেকে সাজসজ্জার সবকিছু ছিল। প্রফেসর’স পেট কেয়ার এবং এসিআই অ্যানিমেল হেলথ এসব স্টল স্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে বিড়াল লালন-পালনের বিনামূল্যে পরামর্শ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক পোষা প্রাণী দিবসে র্যাবিস সচেতনতা বাড়াতে প্রফেসর’স পেট কেয়ার বিনামূল্যে র্যাবিস ভ্যাকসিন দেয়। এ সময় মোট ৩৩টি বিড়ালকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।
র্যাম্প ওয়াক শেষে দেশি, মিক্স ও বিদেশি ক্যাটাগরিতে মোট নয়টি বিড়ালকে পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য নিয়ে পেট লাভার্স অব বাউয়ের সভাপতি কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম বাউ পেট লাভার্স কর্তৃক আয়োজিত হয়েছে বাউ ক্যাট শো। এখানে সেগমেন্ট হিসেবে আছে ক্যাট র্যাম্প ওয়াক এবং যেমন খুশি তেমন সাজো। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন বিড়ালপ্রেমী মানুষ। উনি বিড়ালদের জন্য পেট ক্লিনিক ও পেট অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছেন। আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করুক, যেখানে সব পেটকে আমরা মানুষের মতো ভালোবাসব ও আমাদের পরিবারের অংশ হিসেবে চিন্তা করব। আমরা চাই, বিশ্বের প্রতিটি প্রাণ ভালোবাসা ও স্নেহ পাক।”






