ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬’ মেলায় বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য নানা আকর্ষণীয় অফার নিয়ে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থা এবং হোটেল-রিসোর্টগুলো গ্রাহকদের জন্য বৈচিত্র্যময় পর্যটন প্যাকেজ ও ছাড় নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগের সুযোগও ছিল মেলায়।
আয়োজকদের জানানো মতে, তিন দিন ধরে চলা এই মেলায় মোট ৮-১০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। ২১তমবার আয়োজিত এই মেলায় বাংলাদেশ, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। মোট ৮০টির বেশি বুথে তারা তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দেশের ভ্রমণ ও পর্যটনবিষয়ক প্রকাশনা দ্য বাংলাদেশ মনিটর মেলাটি আয়োজন করেছে।
মেলার শেষ দিন গতকাল শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। প্রায় সব বুথেই কর্মকর্তারা দর্শনার্থীদের সেবায় ব্যস্ত ছিলেন।
কক্সবাজারের সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ‘পে ফর ওয়ান অ্যান্ড থ্রি নাইটস’ অফার দিয়েছে মেলায়। এর সঙ্গে একদিনের জন্য ওয়াটার পার্ক ও রাইড ফ্রি। এই প্যাকেজগুলোর দাম রুমভেদে ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা।
কক্সবাজারের লং বিচ হোটেল মেলায় রুম ভাড়ায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে। ছাড়ের পর দুজনের জন্য রুমভেদে ভাড়া ৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা।
লং বিচ হোটেলের বিক্রয় ও বিপণন প্রধান মো. ইমরান হুমায়ন খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এ বছর মেলায় বুকিং কিছুটা কম হয়েছে। গত বছর তিন দিনে প্রায় ২০০টি প্যাকেজ বুকিং হয়েছিল। তবে এ বছর প্রথম দুই দিনে ৭০টির মতো বুকিং হয়েছে। শেষ দিনে গতকালও কিছু বুকিং হয়েছে। সব মিলিয়ে শ খানেক হবে।
বিমান সংস্থা এয়ার অ্যাস্ট্রা তিন দিন ও দুই রাতের প্যাকেজ অফার করেছে কক্সবাজারের ওসেন প্যারাডাইস বিচ হোটেল ও রিসোর্ট, সায়মন বিচ রিসোর্ট ও সিগাল হোটেলসহ ৮টি হোটেলে থাকা ও টিকিট নিয়ে। জনপ্রতি মূল্য ১৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা।
ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ১৫ শতাংশ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১২ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। এটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মেলায় আশানুরূপ সাড়া পেয়েছি। মূলত মেলায় অংশ নেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল প্রচার। সরাসরি ব্যবসা নয়। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের আগ্রহ দেখে বিদেশে নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনায় দিকনির্দেশনা পাওয়া গেছে।’
২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা ছুটি গ্রুপ মেলায় অংশ নিয়েছে। বর্তমানে তাদের ৪টি রিসোর্ট চালু। কক্সবাজার, কুয়াকাটা ও পূর্বাচলসহ ৫টি রিসোর্ট নির্মাণাধীন। এসব প্রতিষ্ঠানে ৫-১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুযোগ। মেলায় সব ধরনের বিনিয়োগে ১৫ শতাংশ ছাড়।
গোল্ড স্যান্ডস গ্রুপ হোটেল, রিসোর্ট, ভবন ও জমিসহ ৮টি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছে। এসব প্রকল্পে ৬ লাখ থেকে ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ সম্ভব।
গোল্ড স্যান্ডস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সাইফুল আলম বলেন, মেলায় সব মিলিয়ে মোট ৭৫টি ইউনিটে বিনিয়োগ হয়েছে। এ ছাড়া পয়লা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ সামনে রেখে বিনিয়োগে বিশেষ ছাড় রয়েছে।






